খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মে ২০২৬ তারিখে চান্দাইকোনা এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ হালদারের ছেলে দীপ্ত হালদার জ্বর ও পেটব্যথা নিয়ে স্থানীয় চিকিৎসক ডা. সুকুমার বর্মণের কাছে চিকিৎসা নিতে যান। পরে চিকিৎসক তাকে রক্ত, প্রস্রাব ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষার জন্য সরকার ডায়াগনস্টিক এ্যান্ড নার্সিং হোমে পাঠান।
অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষা শেষে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে জানানো হয়, দীপ্ত হালদারের অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে এবং দ্রুত অপারেশন প্রয়োজন। এতে পরিবারটি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তবে সন্দেহ হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিক অপারেশন না করে পরদিন বগুড়ার একটি স্বনামধন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পুনরায় পরীক্ষা করান। সেখানে রিপোর্টে দেখা যায়, তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস নয়, বরং প্রস্রাবে ইনফেকশন হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রদীপ হালদার বলেন, “ভুল রিপোর্টের কারণে আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। যদি তাড়াহুড়ো করে অপারেশন করিয়ে ফেলতাম, তাহলে ছেলের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারত। একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এমন দায়িত্বহীনতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার ডায়াগনস্টিক এ্যান্ড নার্সিং হোমে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম চলছে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টেকনোলজিস্ট ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। অনেক রোগীকেই অতিরিক্ত পরীক্ষা করাতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, স্বাস্থ্যসেবার নামে এ ধরনের অনিয়ম ও ভুল চিকিৎসা সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে সরকার ডায়াগনস্টিক এ্যান্ড নার্সিং হোমের মালিক কামরুল হাসান বলেন, “আমরা শুধু পরীক্ষা করেছি, অপারেশন করিনি।” তবে ভুল রিপোর্টের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
রোগীকে পরীক্ষার জন্য পাঠানো চিকিৎসক ডা. সুকুমার বর্মণ বলেন, “রোগী আমার কাছে এসেছিল। আমি নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা করাতে পাঠিয়েছি। কিন্তু রিপোর্ট ভুল হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ধরনের ভুলের কারণে রোগীর জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।”
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রুহুল আমিন বলেন, “ভুল রিপোর্টের বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। অভিযোগের সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার মান ও বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর নজরদারি না থাকলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
মন্তব্য করুন