খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই হাটিকুমরুল গোলচত্বর ও কড্ডার মোড় এলাকায় ঢাকামুখী মানুষের ঢল নেমেছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাসগুলোতে আসন খালি না থাকায় স্থানীয় কাউন্টার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যাত্রীচাপ ক্রমেই বাড়ছে।
গণপরিবহনের কিছুটা সংকট থাকায় অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ট্রাক, পিকআপ ভ্যান কিংবা মোটরসাইকেলে করেও গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন। কর্মস্থলে সময়মতো পৌঁছানোর তাগিদে তারা বাড়তি খরচ ও ঝুঁকি নিয়েই যাত্রা করছেন।
যাত্রীদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে। ঢাকামুখী বেশ কয়েকজন যাত্রী জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া দাবি করা হচ্ছে। বেসরকারি চাকরিজীবী আশরাফুল ইসলাম বলেন, “সাধারণ সময়ে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকার ভাড়া ৪০০ টাকার মতো। কিন্তু এখন ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। অফিসে যোগ দিতে হবে বলে বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়েই যেতে হচ্ছে।”
তবে যাত্রীদের এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন বাসচালক ও পরিবহন শ্রমিকরা। তাদের দাবি, অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কড্ডার মোড়ে অবস্থানরত একটি দূরপাল্লার বাসের চালক জানান, ঈদের পর ঢাকা থেকে অনেক গাড়ি খালি অবস্থায় উত্তরবঙ্গে ফিরেছে। ফলে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। তবে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে ভাড়া ও পরিবহন সংকট নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও এবারের ঈদ-পরবর্তী ফিরতি যাত্রায় সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো যানজটহীন মহাসড়ক। যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক থেকে শুরু করে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত কোথাও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়নি। যানবাহন ধীরগতিতে হলেও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, ঈদ-পরবর্তী ফিরতি যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত মহাসড়কে কোথাও বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি। যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করছে। যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাধারণ যাত্রীরা বলেন, মহাসড়কে যানজট না থাকায় স্বস্তি মিললেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ও পরিবহন সংকট নিরসনে প্রশাসনের আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তারা জেলা প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশের ভ্রাম্যমাণ আদালতের তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে ঈদ-পরবর্তী ফিরতি যাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হয়।
মন্তব্য করুন