খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
সোমবার (১ জুন) ভোরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আলমপুর বাজার সংলগ্ন আঞ্চলিক সড়কের একটি বড় অংশ দখল করে প্রতিদিন সকাল থেকেই পশু জবাই করা হচ্ছে। জবাই শেষে পশুর রক্ত, চামড়া, নাড়িভুঁড়ি ও অন্যান্য বর্জ্য সরাসরি সড়ক ও পাশের খালে ফেলে রাখা হচ্ছে। এতে পুরো এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। সামান্য বাতাসেই দুর্গন্ধ আশপাশের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে যাচ্ছে।
ব্যস্ত এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এবং শত শত যানবাহন চলাচল করে। রাস্তায় জমে থাকা রক্ত ও বর্জ্যের কারণে পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা কিংবা ভ্যান চলাচলের সময় নোংরা পানি ছিটকে পথচারীদের শরীর ও পোশাকে লাগছে।
স্থানীয় পথচারী আব্দুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তা দিয়ে হাঁটার কোনো পরিবেশ নেই। নাকে রুমাল দিয়েও দুর্গন্ধ ঠেকানো যায় না। পশুর রক্ত আর নোংরা মাড়িয়ে আমাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। এটা কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহার করলেও বিষয়টি যেন তাদের নজরেই আসছে না। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে সড়কের ওপর পশু জবাই চললেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়নি। ফলে কসাইরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
সচেতন মহলের মতে, সড়কের ওপর এভাবে পশু জবাই শুধু পরিবেশ দূষণই নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি। পশুর বর্জ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু ছড়িয়ে রোগব্যাধির ঝুঁকি বাড়ছে। তারা অবিলম্বে নির্দিষ্ট স্থানে কসাইখানা স্থানান্তর এবং সড়কের ওপর পশু জবাই বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, “কে কোথায় কসাইখানা করেছে, সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো জবাইকৃত পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।” তবে জবাইকৃত পশুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়মিত করা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মুঠোফোনে সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, “পথচারী ও যানবাহন চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি করে সড়ককে কসাইখানা হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হবে না। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সড়কের ওপর পশু জবাই বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে সড়কটি স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে ফিরিয়ে আনবে।
মন্তব্য করুন