খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক বছর আগে সরাবপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা সুদের ভিত্তিতে ধার নেন তাহমিনা খাতুন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সুদের টাকা পরিশোধ করে আসলেও সম্প্রতি আর্থিক সংকটের কারণে নিয়মিত টাকা দিতে পারছিলেন না। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
অভিযোগ রয়েছে, রোববার রাতে বকেয়া সুদের টাকা আদায়ের জন্য আমিরুল ইসলাম তাহমিনার বাড়িতে যান। এ সময় টাকা পরিশোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আমিরুল ইসলাম লাঠিসোঁটা দিয়ে তাহমিনাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাহমিনা খাতুন বলেন, “আমি ৪০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলাম এবং দীর্ঘদিন ধরে সুদের টাকা পরিশোধ করেছি। এরপরও তারা আরও টাকা দাবি করছিল। সেদিন রাতে কিছুদিন সময় চাইলে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। আমি প্রতিবাদ করলে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।”
এ বিষয়ে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “সুদের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক গৃহবধূকে মারধরের খবর পেয়েছি। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত ব্যক্তির দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন