খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বাউসি ইউনিয়নের প্রেমনগর ছালিপুড়া এলাকায় বসবাসরত রবিদাস সম্প্রদায়ের ১৮টি পরিবারের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের সমস্যা সমাধানে সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তার।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে তিনি ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. উবায়েদ উল্লাহ খান ও উপজেলা প্রকৌশলী কাজী আব্দুল বাতেন উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রেমনগর ছালিপুড়া এলাকায় প্রায় ১৮টি রবিদাস পরিবারের বসবাস। সেখানে প্রায় ৬০ জন মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করলেও তাদের চলাচলের জন্য কোনো নির্ধারিত রাস্তা নেই। এতদিন বিমল ও বিপ্লব নামে দুই ব্যক্তির বাড়ির পাশ দিয়ে কোনো রকমে চলাচল করতেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি ওই দুই ব্যক্তির বাড়ির পাশে একটি মন্দির নির্মাণের ফলে চলাচলের পথটি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে রবিদাস সম্প্রদায়ের পরিবারগুলো বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
এ অবস্থায় যাতায়াতের জন্য একটি রাস্তার দাবিতে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানানো হয়। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও সেলিনা আক্তার সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনকালে ইউএনও রবিদাস সম্প্রদায়ের ১৮টি পরিবারের যাতায়াতের উপযোগী রাস্তা নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান খুঁজে দেখেন। এ সময় তিনি এলাকার বিভিন্ন হালট ও নদীর পাড় ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাস্তা নির্মাণের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা করেন।
পরিদর্শন শেষে রবিদাস সম্প্রদায়ের যাতায়াতের সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী স্মৃতি মনি বলেন, ‘আমরা অনেকটা অবহেলিত অবস্থায় আছি, শুধু একটি রাস্তার জন্য। আমাদের অনেক ভাই-বোন স্কুলে যায়। কিন্তু রাস্তার কারণে প্রায়ই তাদের স্কুলে যেতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। ইউএনও আমাদের দুঃখ-কষ্ট সরেজমিনে দেখতে এসেছেন, এজন্য আমরা খুব খুশি। আশা করি, তিনি দ্রুত আমাদের এই কষ্ট দূর করবেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার বলেন, ‘সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, রবিদাস সম্প্রদায়ের জন্য যান চলাচল উপযোগী সম্ভাব্য রাস্তাটির কিছু অংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ওপর পড়েছে। সেখানে রাস্তা নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় অনুমতির প্রয়োজন হবে। তারা অনুমতি দিলে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’
মন্তব্য করুন