খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
গাছের প্রতি ভালোবাসা থেকেই ছোটবেলা থেকে বৃক্ষরোপণকে নিজের নেশা ও স্বপ্নে পরিণত করেছেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ভুইয়াগাতি এলাকার বৃক্ষপ্রেমী আরিফুল ইসলাম রানা। নিজের উদ্যোগে রাস্তার পাশে ফুল, ফল, ঔষধি ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে সবুজে সাজিয়ে তুলছেন এলাকার পরিবেশ। তাঁর স্বপ্ন—রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে ফুলে-ফলে গড়ে উঠবে দৃষ্টিনন্দন চিরসবুজ পরিবেশ।
ছোটবেলা থেকেই এলাকায় ‘গাছপ্রেমী’ হিসেবে পরিচিত আরিফুল ইসলাম রানা। পড়াশোনার পাশাপাশি যখনই সুযোগ পেতেন, তখনই গাছ লাগানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। এমনকি একসময় বাবার কাছ থেকে খাতা ও হাতখরচের জন্য টাকা নিয়ে খাতা না কিনে সেই টাকা দিয়ে গাছের চারা কিনে রোপণ করতেন। এ কারণে পরিবারের কাছ থেকে বকুনিও শুনতে হয়েছে তাকে।
রানার সেই ছোটবেলার ভালোবাসা এখন পরিণত হয়েছে বড় স্বপ্নে। ভুইয়াগাতি বাজার ও বিশ্বরোডের পাশ দিয়ে তিনি ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের ফুল, ফল, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছ রোপণ করেছেন। ব্যবসার পাশে গড়ে তুলেছেন নিজের একটি ছোট্ট বাগান। সেখানে রয়েছে কাঠগোলাপ, শিউলি, বাগানবিলাস, পিংকাঠাল, রক্তজবা, বেলিফুল, কেসিয়া, পাথরচুনা, পুদিনা,তুলসী, বনসাই তেঁতুলসহ নানা প্রজাতির গাছ।
বৃক্ষপ্রেমী আরিফুল ইসলাম রানা বলেন, “ছোটবেলা থেকেই গাছ রোপণ করা আমার স্বপ্ন ও নেশা। একদিন বাবা আমাকে খাতা ও হাতখরচের জন্য টাকা দিয়েছিলেন। সেই টাকা দিয়ে খাতা না কিনে কয়েকটি গাছ কিনে স্কুলের পাশে রোপণ করেছিলাম। সেই গাছগুলো এখনো আছে। গাছগুলো দেখলে আমার মন ভরে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “ভুইয়াগাতিতে রাস্তার পাশে অনেক গাছ রোপণ করেছি। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশেও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ দিয়ে একটি বাগান তৈরি করেছি। আমার ইচ্ছা, রায়গঞ্জের বিভিন্ন রাস্তার পাশে ফুল, ফল ও সবুজ গাছের সমাহার তৈরি করা। এতে পরিবেশ সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি মানুষও গাছ লাগাতে উৎসাহিত হবে।”
রানা জানান, ব্যক্তিগত উদ্যোগে যতটুকু সম্ভব তিনি বৃক্ষরোপণ করে যাচ্ছেন। তবে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা পেলে আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
তার স্বপ্ন, শুধু নিজের বাগান নয়—ভুইয়াগাতি বাজার থেকে বিশ্বরোডের পাশসহ রায়গঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে পরিকল্পিতভাবে ফুল, ফল ও ঔষধি গাছ লাগিয়ে একটি সবুজ বলয় তৈরি করা। তাঁর উদ্যোগ সফল হলে একদিকে যেমন এলাকার সৌন্দর্য বাড়বে, অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
একজন সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত উদ্যোগ থেকে এমন সবুজ স্বপ্ন ছড়িয়ে পড়ুক পুরো রায়গঞ্জে—এটাই এখন বৃক্ষপ্রেমী আরিফুল ইসলাম রানার প্রত্যাশা।
মন্তব্য করুন