মোঃ আসাদুল্লাহ- , চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার উমারপুর ইউনিয়নের পাথরাইল খেয়াঘাটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় যাত্রীদের দাবি, যেখানে ভাড়া ২০ টাকা নির্ধারিত থাকার কথা, সেখানে কখনো দ্বিগুণ, আবার কখনো ৩ থেকে ৫ গুণ পর্যন্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে।
এতে প্রতিদিনের যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শ্রমজীবী, কৃষক, শিক্ষার্থী ও স্বল্প আয়ের মানুষরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাথরাইল খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নদী পারাপার করেন। তবে ঘাটে কোনো দৃশ্যমান ভাড়া তালিকা না থাকায় মাঝিরা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, স্বাভাবিকভাবে ২০ টাকার ভাড়া হলেও অনেক সময় ৪০ টাকা, ৬০ টাকা এমনকি ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি সময়, সন্ধ্যার পর নির্ধারিত খেয়া না থাকায়, সংকটের সময় এ ভাড়া নৈরাজ্য আরও বেড়ে যায়।
একজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একদিন ২০ টাকা, আবার অন্যদিন ৬০ টাকা। কোনো নিয়ম নেই। বললেও শোনে না।”
আরেকজন বলেন, “নদী পার না হয়ে আমাদের উপায় নেই। তাই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, খেয়াঘাটে মাঝি আব্দুল খালেকের তত্ত্বাবধানে এ অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলছে। ভাড়া নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীরা বারবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে ব্যক্তিগত নৌকায় পারাপার করতে চাইলে অনেক সময় বাধার সম্মুখীন হতে হয় এবং নির্ধারিত ঘাট ব্যবস্থার বাইরে যেতে হলে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হয় বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘাট এলাকায় ভাড়া তালিকা টানানো নেই এবং কোনো নির্দিষ্ট নিয়মও দৃশ্যমান নয়। ফলে যাত্রীরা ভাড়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যান।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর দাবি, পাথরাইল খেয়াঘাটে দ্রুত সরকারি ভাড়া নির্ধারণ করে তা প্রকাশ্যে প্রদর্শন করতে হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে নিয়মিত তদারকি ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মাঝি আব্দুল খালেকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
মন্তব্য করুন