খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের অধিকাংশ জায়গায় পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্ত পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। কাদা ও জলাবদ্ধতায় সড়কটি এতটাই নাজুক অবস্থায় রয়েছে যে, যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রায়গঞ্জ পৌরসভার অন্তর্গত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ধানগড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ধানগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ যাতায়াত করে। এছাড়া ধানগড়া বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতা এবং বাগবাটি-ভূঁইয়াগাতি সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্যও এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। অথচ দীর্ঘদিনেও সড়কটির সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাফি আহমেদ বলেন, “প্রতিদিন স্কুলে আসতে গিয়ে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। রাস্তাটি এতটাই খারাপ যে রিকশা বা ভ্যানচালকরাও এ পথে আসতে চান না। প্রায়ই কেউ না কেউ পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছে। এতে আমাদের পড়াশোনার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. রহিম বলেন, “অনেকদিন ধরে শুনছি রাস্তা হবে, কিন্তু কাজ আর শুরু হয় না। জনপ্রতিনিধিরা চেষ্টা করছেন বলে শুনি, কিন্তু বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।”
অটোভ্যান চালক আব্দুস সামাদ বলেন, “উপজেলার এত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তার এমন অবস্থা হওয়া খুবই দুঃখজনক। প্রতিদিন ভ্যানের চাকা গর্তে আটকে যায়, যাত্রীরা পড়ে গিয়ে আহত হন। আমরা খুব ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করি।”
ধানগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, “উপজেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠের সামনের রাস্তা বছরের পর বছর ধরে এমন বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত সংস্কার করা উচিত।”
রায়গঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি হাতেম আলী সুজন বলেন, “এই বেহাল রাস্তার বিষয়টি নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা সভায় একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। দফায় দফায় বিষয়টি উত্থাপন করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে পথচারীদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।”
রায়গঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. মোশারফ হোসেন আনন্দ বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে ধানগড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ধানগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। এছাড়াও ধানগড়া বাজারের হাজারো মানুষ এবং বাগবাটি থেকে ভূঁইয়াগাতি পর্যন্ত এলাকার মানুষের চলাচলের অন্যতম মাধ্যম এটি। অথচ রাস্তার এমন করুণ অবস্থা প্রশাসনের নজরে না আসা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক।”
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ রবিউল আলম বলেন, “সেখানে পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া রাস্তা নিচু হওয়ায় সমস্যাটি আরও প্রকট হয়েছে। আপাতত আমাদের কোনো মেরামতের পরিকল্পনা নেই। আগামী বছর আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে সড়কটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পৌরসভা চাইলে নিজ উদ্যোগে মেরামতের কাজ করতে পারে।”
তবে এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আব্দুল খালেক পাটোয়ারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে এমন বেহাল সড়ক শুধু অবহেলারই প্রতিচ্ছবি নয়, বরং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ও জননিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
মন্তব্য করুন