মোঃ আসাদুল্লাহ- , চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
উপজেলার উমারপুর ইউনিয়নের পাথরাইল, হাঁপানিয়া, দত্তকান্দি, মধ্যশিমুলিয়া, ছোল, আগশিমুলিয়া, চর পাচুরিয়া, চর বাউশা ও চর হিজুলিয়াসহ অন্তত ১২টি চরের হাজারো মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। উপজেলা সদর কিংবা দেশের অন্য যেকোনো স্থানে যেতে হলে তাদের নদী পার হতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে বা অসুস্থ রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় ঘাটে দীর্ঘক্ষণ নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে এ দুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এসব চরাঞ্চলে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি ডিজিটাল সংযোগের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে রয়েছে চরের জনপদ। পাথরাইল, হাঁপানিয়া, হাটাইল, মধ্যশিমুলিয়া ও দত্তকান্দি এলাকায় পর্যাপ্ত মোবাইল নেটওয়ার্ক সুবিধা না থাকায় অনেক সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহার করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে অনলাইন শিক্ষা, ফ্রিল্যান্সিং, সরকারি ডিজিটাল সেবা গ্রহণ এবং জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা খাতেও রয়েছে চরম দুর্ভোগ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, উমারপুর ইউনিয়নে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও সেটি কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে সামান্য চিকিৎসার জন্যও রোগীদের নদী পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদর কিংবা দূরবর্তী হাসপাতালে যেতে হয়।
চরবাসীরা জানান, যমুনার অব্যাহত ভাঙনে বারবার বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে নতুন চরে আশ্রয় নিলেও তাদের জীবনমানের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ঘটেনি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধার সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই তাদের জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, জাতীয় বাজেট ও সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় চৌহালীর চরাঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হোক। বিশেষ করে পাথরাইল, হাঁপানিয়া, হাটাইল, মধ্যশিমুলিয়া ও দত্তকান্দি এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার স্থাপন, উমারপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা, জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু, নিরাপদ নৌঘাট নির্মাণ, নিয়মিত নৌযান চলাচল নিশ্চিতকরণ এবং নদীভাঙন রোধে কার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
চরবাসীদের বিশ্বাস, জাতীয় বাজেটে তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো যথাযথ গুরুত্ব পেলে যমুনাপাড়ের অবহেলিত জনগোষ্ঠীও দেশের উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত হতে পারবে। তাদের প্রত্যাশা, এবারের বাজেট শুধু সংখ্যার হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের একটি কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠবে।
মন্তব্য করুন