খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হাটপাঙ্গাসি বাজারের খেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকায় থাকা বিশাল কড়ই গাছগুলো বাজারের অন্যতম পরিচিত কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিন গাছগুলোর নিচে বসেন শত শত হকার, ভ্যানচালক ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলোর বেশ কয়েকটি বড় ডাল শুকিয়ে মরে গেছে। সামান্য বাতাস কিংবা বৃষ্টি হলেই ছোট-বড় ডাল ভেঙে নিচে পড়ে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, ইতোমধ্যে কয়েকজন মানুষ ডাল পড়ে সামান্য আহত হয়েছেন। তবে এখনো বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা না ঘটায় সবাই আতঙ্কের মধ্যেই চলাফেরা করছেন। বাজার থেকে পশ্চিম দিকে রাস্তার পাশে থাকা আরও পাঁচ থেকে ছয়টি গাছের অবস্থাও একই রকম ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান তারা।
সম্প্রতি ঝড়ের সময় বৈকুণ্ঠপুর এলাকায় একটি ঝুঁকিপূর্ণ বটগাছ ভেঙে পড়ার ঘটনাও নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। রাতের বেলায় গাছটি ভেঙে পড়ায় হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও, হাটপাঙ্গাসির গাছগুলো নিয়েও একই ধরনের শঙ্কা কাজ করছে মানুষের মনে।
বাজারের পাশে বসবাসকারী আল আমিন বলেন,
“এই গাছগুলো আমাদের অনেক উপকার করেছে। গরমের দিনে মানুষ এর ছায়ায় শান্তি পায়। কিন্তু এখন এর নিচ দিয়ে চলাচল করতেই ভয় লাগে। ওপরের শুকনো ডালগুলো কখন ভেঙে পড়ে বলা যায় না।”
গাছের নিচে থাকা কয়েকটি পরিবারও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ডাল ভেঙে ঘরের ওপর পড়তে পারে।
ভ্যানচালক রহমান জানান,
“হাটের দিনে এই গাছের নিচে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। যদি কোনো বড় ডাল হাটের সময় ভেঙে পড়ে, তাহলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত মরা ডালগুলো কেটে ফেলা দরকার।”
রায়গঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি বিরোধী প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক খান যুবায়ের বলেন,
“পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ সংরক্ষণ জরুরি। তবে জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ ও মরা ডালগুলো দ্রুত অপসারণ করা প্রয়োজন। পুরো গাছ না কেটে শুকিয়ে যাওয়া অংশগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে সামাজিক বন বিভাগ রায়গঞ্জ রেঞ্জের কর্মকর্তা দেওয়ান শহীদুজ্জামান বলেন,
“গাছগুলো সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের আওতাধীন। আর সড়কটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের। দুই বিভাগের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।”
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল খালেক পাটোয়ারী জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জননিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মরা ও ঝুঁকিপূর্ণ ডালগুলো অপসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
এলজিইডি সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রেজাউর রহমান জানান, জনসাধারণের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলোর মরা ডাল দ্রুত অপসারণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে যাতে গাছ সংরক্ষণ করা যায়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ আফসানা ইয়াসমিন জানান, বিষয়টি জেলা পরিষদের নজরে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো পরিদর্শন করা হবে। যেসব ডাল শুকিয়ে জনসাধারণের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেগুলো দ্রুত অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি না করে কীভাবে গাছগুলো সংরক্ষণ করা যায়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ডাল অপসারণে স্থানীয় প্রশাসন ও বাজার কমিটির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন হাটপাঙ্গাসিবাসী। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।#
মন্তব্য করুন