খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক দিন আগে কালবৈশাখী ঝড়ে সড়কের পাশের একটি বড় গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে যায়। এতে ব্যস্ততম এই সড়কের একপাশ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। দুই লেনের সড়কে এখন এক লেন দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, সিএনজি ও অটোরিকশা পারাপারের সময় প্রায়ই মুখোমুখি সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে গাছটি স্পষ্টভাবে দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। অনেক যানবাহন চালক হঠাৎ সামনে গাছ দেখতে পেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারানোর উপক্রম হন। ফলে এলাকাটি এখন কার্যত “মরণফাঁদে” পরিণত হয়েছে।
ঈদকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গমুখী বিভিন্ন রুটে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে পশুবাহী ট্রাক ও ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত বাড়ায় বৈকন্ঠপুর এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক আব্দুল খালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“এমনিতেই ঈদের সময় রাস্তায় গাড়ির চাপ বেশি থাকে। তার ওপর রাস্তার মাঝখানে এই বিশাল গাছ পড়ে আছে। পাশ কাটাতে গিয়ে জ্যামে আটকে থাকতে হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
গাছটি পড়ে থাকার এতদিন পরও তা অপসারণ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, গাছটি সরকারি হওয়ায় সাধারণ মানুষ নিজেরা সরানোর সাহস পাচ্ছেন না। অথচ সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) কিংবা বন বিভাগ— কোনো পক্ষ থেকেই কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঈদের আগে জরুরি ভিত্তিতে গাছটি অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হোক। তারা মনে করছেন, দায়িত্ব পালনে গড়িমসি ও সমন্বয়হীনতার কারণেই সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে সামাজিক বন বিভাগের রায়গঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান শহীদুজ্জামান বলেন,
“উপড়ে পড়া গাছটি জেলা পরিষদের। তাদেরকেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
অন্যদিকে বন বিভাগের সিরাজগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিজিয়া পারভিন মিষ্টির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান ফারহান সুমেল বলেন,
“বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব শীঘ্রই গাছটি অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মন্তব্য করুন