খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের দেড়াগাঁতী রুদ্রপুর গ্রামের কনক বৈরাগীর স্ত্রী মুনজু (মহন্ত) বৈরাগী প্রসব ব্যথা নিয়ে কিছুদিন আগে সরকার ডায়াগনস্টিক এন্ড নার্সিং হোমে ভর্তি হন। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তার সিজারিয়ান অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন।
অভিযোগ রয়েছে, অপারেশন শেষে রোগীকে বেডে নেওয়ার পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। কিছু সময়ের মধ্যেই মুনজু (মহন্ত) বৈরাগীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
নিহতের স্বামী কনক বৈরাগী অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্ত্রীর শরীরে জ্বর ও উচ্চ রক্তচাপ ছিল। যথাযথ প্রস্তুতি এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া অপারেশন করানো হয়েছে। রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ার বিষয়টিও আমাদের সময়মতো জানানো হয়নি।”
স্থানীয় বাসিন্দা ওমর বসাক বলেন, “সরকার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা না করেই অপারেশন করানো হয়েছে বলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।”
ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করলে স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ বিষয়ে সরকার ডায়াগনস্টিক এন্ড নার্সিং হোমের মালিক কামরুল হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “রোগীর আগে থেকেই হার্টের সমস্যা ছিল। তিনি জটিল অবস্থায় হাসপাতালে এসেছিলেন। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। চিকিৎসায় কোনো অবহেলা করা হয়নি।”
সিরাজগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. রুহুল আমিন বলেন, “বিষয়টি আমরা অবগত নই। তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অভিযোগ এসেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর চিকিৎসার মান, অনুমোদন, দক্ষ জনবল ও প্রশাসনিক তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন