চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে গভীর রাতে হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীদের বাধা মোকাবিলা করে অভিযান চালিয়ে ৪০ থেকে ৪৫ জন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে সন্ত্রাসীরা প্রথমে আলীনগর স্কুলে স্থাপিত যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, হামলায় অংশ নেয় ২০০ থেকে ৩০০ জনের একটি সশস্ত্র দল। তারা এলএমজি, একে-৪৭, রাইফেল ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে ক্যাম্পে হামলা চালায়।
ঘটনার আগে বায়েজিদ লিংক রোড-আলীনগর সড়কের অন্তত চারটি স্থানে এক্সক্যাভেটর দিয়ে বড় গর্ত করে রাস্তা কেটে দেওয়া হয়, যাতে যৌথ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে না পারে। এতে বাহিনীর সদস্যদের কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে আলীনগরে যেতে হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, একদল সন্ত্রাসী পাহাড়ের ওপর থেকে গুলি চালিয়ে যৌথ বাহিনীকে ব্যস্ত রাখে। একই সময়ে আরেকটি দল পেলোডার দিয়ে নতুন নির্মাণাধীন ক্যাম্পের অবকাঠামো, দেয়াল ও টিনশেড ভাঙচুর করে। পরে ক্যাম্প এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়।
র্যাব-৭ এর অধিনায়ক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে ৪০-৪৫ জন সন্দেহভাজনকে আটক করেছি। যাচাই-বাছাই শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, এ হামলার সঙ্গে ‘ইয়াছিন বাহিনী’ জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তনের কারণে বাহিনীর প্রধানকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, “জঙ্গল সলিমপুরে দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল। সেটি হাতছাড়া হওয়ায় সন্ত্রাসীরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। পুলিশের এখানে পিছু হটার সুযোগ নেই। জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি জানান, আত্মরক্ষার্থে যৌথ বাহিনী ১০৪ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য আহত হননি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর থেকে আলীনগর পর্যন্ত পাহাড়ি সড়কের চারটি স্থানে বড় বড় গর্ত করা হয়েছে। অনেক স্থানে এখনো পানি জমে রয়েছে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শতাধিক যানবাহন অবস্থান করছে।
নির্মাণাধীন ক্যাম্পের রাজমিস্ত্রি রাজীব জানান, রাতের গোলাগুলির সময় শতাধিক সশস্ত্র ব্যক্তি ট্রাকযোগে এসে ক্যাম্পে হামলা চালায়। পরে এক্সক্যাভেটর দিয়ে ক্যাম্প তছনছ করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে শ্রমিকরা নালায় আশ্রয় নেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আলীনগর এলাকার বাসিন্দা রাজিয়া বেগম বলেন, “একদিকে ইয়াছিন বাহিনী, অন্যদিকে পুলিশের অভিযান—সব মিলিয়ে আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। এখানে শান্তি ফিরে আসুক, সেটাই চাই।”
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুটি এক্সক্যাভেটর, একটি পেলোডার, চারটি ডাম্পট্রাক, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে বড় ধরনের যৌথ অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরপর সলিমপুর ও আলীনগরে যৌথ বাহিনীর দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।