খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘুড়কা ইউনিয়নের ঘুড়কা দাসপাড়া গ্রামের মৃত নিত্যরঞ্জন সরকারের ছেলে চন্দন সরকার, মৃত মনোরঞ্জন সরকারের ছেলে তরুণ রায়, নিতীশ কুমার সরকার ও মো. আব্দুল লতিফ হোসেন মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়ক উন্নয়ন ও নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য উত্তরবঙ্গ থেকে ট্রাকযোগে আনা পাথরের কিছু অংশ মহাসড়কের পাশে কম দামে বিক্রি করা হয়। পরে একটি অসাধু চক্র অনুমোদন ছাড়াই এসব পাথর খোলা জায়গায় মজুত করে খুচরা ও পাইকারি দরে বিক্রি করছে। এতে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল হয়ে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষ করে হাটিকুমরুল মহাসড়কের ঘুড়কা পাপিয়া হোটেল এলাকার বিভিন্ন স্থানে রাস্তার ধারে সারি সারি পাথরের স্তূপ দেখা যায়। অনেক সময় ট্রাক দাঁড় করিয়ে পাথর লোড-আনলোড করার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। রাত-দিন চলা এ অবৈধ বাণিজ্যের কারণে পথচারী, যাত্রী ও পরিবহন চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
মিশুকচালক আতিকুল ও লতিফ অভিযোগ করে বলেন, “মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে পাথরবাহী ট্রাক রাখার কারণে রাস্তা অনেকটাই সরু হয়ে গেছে। সামান্য অসতর্কতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ধুলাবালুর কারণে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং বসতবাড়ির মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।”
এক পরিবহন চালক বলেন, “রাস্তার পাশে যেভাবে পাথরবাহী ট্রাক রাখা হয়, এতে রাতে গাড়ি চালাতে খুব সমস্যা হয়। অনেক সময় সামনে কী আছে বোঝা যায় না। সবসময় দুর্ঘটনার ভয় নিয়ে চলতে হয়।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, মহাসড়কের পাশে অনুমোদনহীনভাবে পাথর মজুত ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও কঠোর মনিটরিং না থাকায় অবৈধ ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে পাথর মজুত ও বিক্রির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অবৈধ পাথরের ডিপোগুলো অপসারণ করে মহাসড়কের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
মন্তব্য করুন