খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়ানপুর চৌরাস্তা (ইটভাটা মোড়) থেকে ফজর আলীর বাড়ি পর্যন্ত সড়কের পাশে ইতোমধ্যে ১০টি বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে জয়ানপুর চৌরাস্তার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত একটি বৃহৎ পাকড় গাছ কাটার প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার (৩০ মে) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে সারি সারি গাছ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে আসছে। এর মধ্যে সবচেয়ে নজরকাড়া হচ্ছে বিশাল আকৃতির পাকড় গাছটি। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি গাছ নয়, বরং কৃষক, শ্রমিক ও পথচারীদের দীর্ঘদিনের আশ্রয়স্থল।
মাঠে কাজ করা কৃষি শ্রমিক আব্দুল মালেক বলেন, “প্রচণ্ড রোদে মাঠে কাজ করতে করতে আমরা যখন হাঁপিয়ে উঠি, তখন এই পাকড় গাছের নিচে এসে একটু বিশ্রাম নিই। ঠাণ্ডা বাতাসে শরীরটা জুড়িয়ে যায়। গাছটি কেটে ফেললে আমাদের মতো শ্রমজীবী মানুষের জন্য বড় কষ্টের কারণ হবে।”
তার সঙ্গে কথা বলা আরও কয়েকজন শ্রমিক জানান, বছরের পর বছর ধরে গাছটি তাদের বিশ্রামের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গ্রীষ্মের দাবদাহে কিংবা বর্ষার হঠাৎ বৃষ্টিতে এই গাছই তাদের আশ্রয় দেয়।
এলাকাবাসীর দাবি, বিদ্যুৎ সংযোগ অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু সেই কাজ করতে গিয়ে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করা উচিত নয়। তারা শুরু থেকেই বিকল্প পথে বিদ্যুতের লাইন নেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে আসছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফজর আলীর পুত্রবধূ বলেন, “বিদ্যুতের লাইন নিতে হলে একদিকে রাস্তার গাছ কাটতে হবে, অন্যদিকে আমাদের বাড়ির ওপর দিয়ে লাইন নিতে হবে। এ কারণেই আমার শ্বশুর আপত্তি জানিয়েছেন। আমরা চাই এমন একটি সমাধান হোক, যাতে বিদ্যুৎও আসে আবার গাছও রক্ষা পায়।”
ধানগড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদপ্রার্থী আমিনুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “উন্নয়ন প্রয়োজন, তবে তা পরিবেশবান্ধব হতে হবে। একটি বিশাল গাছ কেটে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার চেয়ে বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করা অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত। সচেতন মানুষ এ ধরনের পরিবেশবিনাশী সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না।”
আটঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা পাপ্পু চন্দ্র বলেন, “বর্তমান প্রযুক্তির যুগে পরিবেশের ক্ষতি না করেও বিদ্যুতের লাইন স্থাপন করা সম্ভব। বিদ্যুৎ বিভাগের উচিত নতুন করে নকশা পর্যালোচনা করে এমন একটি পথ বের করা, যাতে গাছটি অক্ষত থাকে।”
মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, “এই পাকড় গাছ শুধু পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি স্থানীয় মানুষের আবেগেরও অংশ। গাছ কাটার সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে সামাজিকভাবে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা।”
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ভুইয়াগাতী জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. নেজামুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। পরিবেশ রক্ষায় সবুজায়নের গুরুত্ব আমরা উপলব্ধি করি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। নকশায় কোনো ত্রুটি বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের ভারসাম্য বজায় রেখে এমন একটি সমাধান বের করা হবে, যাতে বিদ্যুতায়নের কাজও সম্পন্ন হয় এবং এলাকার বহু বছরের ঐতিহ্যবাহী পাকড় গাছটিও রক্ষা পায়। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন জয়ানপুরের বাসিন্দারা।
মন্তব্য করুন