খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
সিরাজগঞ্জ শহর, বাজার স্টেশন, কড্ডার মোড়, চান্দাইকোনা, ধানগড়া, নিমগাছি, পিপুলবাড়ি, উল্লাপাড়া ও তাড়াশসহ বিভিন্ন এলাকার নামী-দামী মিষ্টির দোকানগুলো ঈদকে সামনে রেখে নতুন সাজে সেজেছে। কিন্তু ক্রেতাদের অভিযোগ, ঈদ উপলক্ষে কেজিপ্রতি মিষ্টির দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু দাম বৃদ্ধিই নয়, মিষ্টির ওজনে রস বা শিরার কারসাজিও করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ক্রেতারা জানান, শুকনো মিষ্টির তুলনায় রসে ভেজানো মিষ্টির চাহিদা বেশি থাকায় বিক্রেতারা সেই সুযোগ নিচ্ছেন। পাত্র থেকে মিষ্টি তোলার সময় অতিরিক্ত রসসহ পাল্লায় মাপায় এক কেজি মিষ্টির মধ্যে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত শুধু শিরাই থেকে যাচ্ছে। ফলে প্রকৃত মিষ্টির পরিমাণ কমে যাচ্ছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
অভিযোগের সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মিষ্টির কার্টুন বা বক্সের ওজন নিয়ে প্রতারণা। নিয়ম অনুযায়ী মিষ্টি আলাদাভাবে মেপে পরে কার্টুনে দেওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ দোকানেই কার্টুনসহ ওজন করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন দোকানে ব্যবহৃত খালি কার্টুনের ওজন ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত। সে হিসেবে ৪০০ টাকা কেজি দরের মিষ্টির সঙ্গে একজন ক্রেতাকে শুধু কার্টুনের জন্যই অতিরিক্ত ৪০ থেকে ৬০ টাকা গুনতে হচ্ছে।
হাটিকুমরুলে মিষ্টি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাওয়ার জন্য মিষ্টি কিনতে এসেছি। কিন্তু মিষ্টির যে দাম, তার ওপর আবার কার্টুনের ওজন ধরে টাকা রাখা হচ্ছে। এক কেজি মিষ্টি কিনলে তার একটা বড় অংশই কার্টুন আর রসে চলে যাচ্ছে। এটা পরিষ্কার ডাকাতি।”
আরেক ক্রেতা আব্দুল খালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কার্টুনের ওজন মিষ্টির ওজনে বাদ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও কেউ তা মানছে না। প্রশাসনের উচিত এখনই এসব দোকানে অভিযান চালানো।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রতি বছরই ঈদের সময় মিষ্টির বাজারে এমন নৈরাজ্য দেখা যায়। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। আসন্ন ঈদের আনন্দ যেন সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তিতে পরিণত না হয়, সে জন্য দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
মন্তব্য করুন