খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
শুক্রবার সকালে (২৯ মে) জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও মহাসড়ক সংলগ্ন পেট্রোল পাম্পগুলো ঘুরে দেখা যায়, চিরচেনা সেই উপচে পড়া ভিড় উধাও। দু-একটি মোটরসাইকেল বা তিন চাকার যান আসলেও তেল নিয়ে দ্রুতই চলে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না কাউকেই। পাম্পের কর্মীরা জানান, ক্রেতা না থাকায় দিনের সিংহভাগ সময়ই তাদের অলস বসে কাটাতে হচ্ছে।
এক পাম্প ম্যানেজার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আগে তেল কম থাকলে ক্রেতাদের সামাল দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হতো। আর এখন পাম্পে পর্যাপ্ত তেল আছে, কিন্তু ক্রেতার দেখাই নেই। বিক্রি আগের তুলনায় অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে।”
বিগত দিনে জ্বালানি সংকটের সময় বা তেল চুরি রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুয়েল বা বিশেষ ‘রেশন কার্ডের’ মাধ্যমে তেল দেওয়ার যে কড়াকড়ি বা আলোচনা ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার কোনো প্রয়োজনীয়তাই দেখছেন না মালিকরা। তেল উদ্বৃত্ত থাকায় এখন যেকোনো যানবাহন চালক এসে চাহিদা অনুযায়ী সরাসরি তেল নিতে পারছেন। কোনো ধরনের অতিরিক্ত নথিপত্র বা কার্ডের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয় পরিবহন চালক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকটি কারণে পাম্পগুলোতে এই মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া মোটরসাইকেল বা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বের হওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি বর্তমানে বড় কোনো সেচ মৌসুম না থাকায় ডিজেলের চাহিদাও তুলনামূলক কম। এছাড়া পরিবহন খাতেও যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাপ কম থাকায় জ্বালানি বিক্রিতে সরাসরি প্রভাব পড়ছে।
পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের স্থানীয় এক নেতা জানান, একটি পাম্প সচল রাখতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পরিচালন ব্যয় বহন করতে হয়। তেল বিক্রি এভাবে দিনের পর দিন কমতে থাকলে ব্যাংক ঋণের কিস্তি, বিদ্যুৎ বিল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করাই মালিকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আবারও জ্বালানির চাহিদা বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
মন্তব্য করুন