খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
ঈদের দিন সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রামাঞ্চলে গরু ও ছাগলের চামড়া সংগ্রহ শুরু হয়। কিন্তু বাজারে চাহিদা কম থাকায় এবারও কম দামে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। বর্তমানে বড় গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়, ছোট গরুর চামড়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকা এবং ছাগলের চামড়া মাত্র ২০ থেকে ৫০ টাকায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগেও একটি গরুর চামড়ার দাম এক হাজার টাকার বেশি পাওয়া যেত। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করতেন। কিন্তু বর্তমানে চামড়া ছাড়ানোর শ্রমিক খরচই দুই হাজার টাকা পর্যন্ত হওয়ায় অনেকেই নিজেরাই চামড়া ছাড়াচ্ছেন। এতে অসাবধানতায় অনেক চামড়া কেটে বা ফুটো হয়ে নষ্ট হচ্ছে। কোথাও কোথাও অযত্নে পড়ে থাকতেও দেখা গেছে চামড়া।
মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানান, চামড়া কিনে লবণ লাগানো, শ্রমিক ও পরিবহন খরচ বহন করার পর লাভ তো দূরের কথা, মূলধন ফেরত পাওয়াই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত বিক্রি না করতে পারলে সংরক্ষণের অভাবে বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
শিবচরের এক ব্যবসায়ী বলেন, “চামড়ার বাজারে স্থিতিশীলতা নেই। ট্যানারিগুলোর বকেয়া টাকা আর কম দামের কারণে বড় পরিসরে চামড়া সংগ্রহ করতে কেউ সাহস পাচ্ছে না।”
চামড়ার দাম কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছে স্থানীয় এতিমখানা ও মাদরাসাগুলোও। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি বছর কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ খরচ মেটানো হয়। কিন্তু এবার আয় অনেক কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চামড়া সংগ্রহকারীদের তথ্যমতে, এবার শিবচরে কোরবানির সংখ্যা তুলনামূলক কম হয়েছে এবং ছোট গরুর সংখ্যাই বেশি। ফলে ছোট গরুর চামড়ার দাম আরও কমেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ না করে, যারা স্বেচ্ছায় নিয়ে এসেছেন শুধু সেগুলোই গ্রহণ করেছে।
বুধবার সন্ধ্যায় বাহাদুরপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন মাদরাসা শিক্ষক মাঠে চামড়া নিয়ে বসে আছেন। তারা জানান, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা খুব কম দামে চামড়া কিনছেন, আবার অনেকে কিনতেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফরিদপুর থেকে ব্যবসায়ী এলে ভালো দামে বিক্রির আশা করছেন তারা।
শিবচরের চামড়া ব্যবসায়ী আয়লাল হক জাবা বলেন, “ঢাকার ট্যানারি মালিকদের আগ্রহ এবার অনেক কম। আগে তারা অগ্রিম টাকা দিয়ে চামড়া কিনতেন। এখন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও হিসাব করে চামড়া কিনছেন। দাম কম থাকায় অনেকে নিজেরাই চামড়া ছাড়াতে গিয়ে চামড়া নষ্ট করছেন। তারপরও ভালো চামড়াগুলো সংগ্রহ করে লবণ দিচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, শিবচরের ব্যবসায়ীরা পাশের শরীয়তপুরের জাজিরা ও নড়িয়া, মাদারীপুরের রাজৈর এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকার চামড়াও কিনে থাকেন। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সরবরাহও কম।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সরকার চলতি বছর গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম বাড়ালেও বাস্তব বাজারে তার কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। এতে দেশের চামড়া শিল্প আবারও বড় সংকটে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “এতিমখানা ও মাদরাসার দায়িত্বশীলদের চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিনামূল্যে লবণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, উপজেলায় চামড়া সংরক্ষণে বড় কোনো সমস্যা হবে না।”
মন্তব্য করুন