খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
মা ও ছেলে দুজনই মোহরকয়া নতুনপাড়া মাধ্যমিক কারিগরি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। তারা এ বছর মধুবাড়ি দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন ফুলঝড়ির বিয়ে হয় নজরুল ইসলামের সঙ্গে। স্বামীর সীমিত আয়ে সংসার চলত কষ্টে। দুই সন্তানকে বড় করতে গিয়ে থেমে যায় তার শিক্ষাজীবন। সময়ের ব্যবধানে বড় মেয়ে নার্সিং শেষ করে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি পান। এরপর পরিবারে কিছুটা স্বচ্ছলতা ফিরে এলে আবারও জেগে ওঠে ফুলঝড়ির পুরোনো স্বপ্ন—পড়াশোনা করার ইচ্ছা।
স্বামী ও সন্তানদের উৎসাহে নতুন করে শিক্ষাজীবন শুরু করেন তিনি। এখন ছেলের সঙ্গেই অংশ নিচ্ছেন এসএসসি পরীক্ষায়।
ফুলঝড়ি বেগম বলেন,
“এ বছর ছেলের সঙ্গে পরীক্ষা দিচ্ছি। এসএসসি পরীক্ষা দিতে পেরে খুব আনন্দ লাগছে। কখনো ভাবিনি আবার পড়াশোনা শুরু করতে পারব। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন মা-ছেলে দুজনই ভালো ফল করতে পারি।”
ছেলে মনিরুল ইসলাম বলেন,
“মায়ের সঙ্গে পরীক্ষা দিতে পেরে আমি গর্বিত। মা আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। আমি চাই, মা ভবিষ্যতেও পড়াশোনা চালিয়ে যাক।”
ফুলঝড়ির স্বামী নজরুল ইসলাম বলেন,
“একজন শিক্ষিত মা-ই পারে শিক্ষিত জাতি গড়তে। তাই স্ত্রীর পড়াশোনায় কখনো বাধা দিইনি। ভ্যান চালিয়ে ও দিনমজুরি করে সংসার চালাই। সে যত দূর পড়তে চায়, আমি পাশে থাকব।”
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন,
“এ ঘটনা নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত। বয়স কখনো শিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না। ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো বয়সেই শিক্ষা অর্জন সম্ভব।”
মন্তব্য করুন