খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন দেওড়া গ্রামের প্রভাবশালী মো. জিয়াউল হকের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেওড়া গ্রামের পাকা সড়কসংলগ্ন প্রায় সাত শতক জায়গায় দীর্ঘ ৬১ বছর ধরে গ্রামবাসী ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন। চলতি বছরও সেখানে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি দেওড়া গ্রাম ঈদগাহ মাঠ কমিটির পক্ষ থেকে ২০২৬ সালের জন্য ওই জায়গার লিজও নবায়ন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কমিটির সদস্যরা।
তবে সম্প্রতি ওই জায়গাটি নিজের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে গ্রামবাসীর বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত ২০ জুলাই রাতে জাহাঙ্গীর হোসেন তার লোকজন নিয়ে ঈদগাহ মাঠের পুরোনো ইটের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে জায়গাটি টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেন।
এ ঘটনায় দেওড়া ঈদগাহ কমিটির সদস্য আলম জাহাঙ্গীর তাড়াশ সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ জেএম নাহিদ হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) উভয় পক্ষকে ডেকে কাগজপত্র পর্যালোচনা করেন এবং জাহাঙ্গীর হোসেনকে টিনের বেড়া খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে তিনি ওই বেড়া খুলে দেন।
কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, শনিবার সকালে জাহাঙ্গীর হোসেন আবারও ঈদগাহ মাঠের জায়গায় টিনের চাল দিয়ে কেরাম খেলার একটি ঘর নির্মাণ করেন। এতে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষসহ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
দেওড়া ঈদগাহ কমিটির সদস্য আবু তাহের, মো. রেজাউল করিম রিপন, মো. জাকির হোসেন, আলম জাহাঙ্গীর, মো. আমজাদ হোসেন ও মো. শাকিল হোসাইনসহ স্থানীয়রা বলেন, প্রায় ৬১ বছর ধরে বংশপরম্পরায় গ্রামবাসী ওই সাত শতক জায়গা ঈদগাহ মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। চলতি বছরও সেখানে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়েছে এবং ঈদগাহ মাঠ কমিটির পক্ষ থেকে লিজ নবায়ন করা হয়েছে। এরপরও জাহাঙ্গীর হোসেন জায়গাটি নিজের দাবি করে দখলের চেষ্টা করছেন।
তারা আরও বলেন, প্রশাসনের নির্দেশে টিনের বেড়া খুলে দেওয়ার পর আবারও ঈদগাহ মাঠের ভেতরে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারি জায়গা ও দীর্ঘদিনের ঈদগাহ মাঠ রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘জায়গাটি আমার পৈতৃক সম্পত্তি। গ্রামবাসীর বাধার কারণে এতদিন দখল নিতে পারিনি। এখন সময় হয়েছে, তাই আমি জায়গাটির দখল বুঝে নিয়েছি।’
এদিকে, দখলের বিষয়টি জানান দিয়ে জাহাঙ্গীর হোসেন তার ব্যবহৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘দীর্ঘদিন ঝামেলা থাকার পর জালেমদের হাত থেকে বাপের জায়গা উদ্ধার করলাম।’
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিনের ঈদগাহ মাঠ নিয়ে বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য করুন