reporter খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
প্রকাশ : 25 আগস্ট 2026 ইং
১০৩ বার পড়া হয়েছে

ফুলজোড় নদীতে সেতু নেই, ঝুঁকি নিয়ে খেয়ায় স্কুলে যায় শিক্ষার্থীরা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের তিননান্দিনা এলাকায় ফুলজোড় নদীর ওপর দীর্ঘদিনেও নির্মাণ হয়নি কোনো স্থায়ী সেতু। ফলে নদীর দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা হয়ে আছে খেয়া নৌকা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই নৌকায় নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় তাদের ঝুঁকি আরও বাড়ে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিননান্দিনা এলাকার ফুলজোড় নদী বর্ষায় পানিতে ভরে ওঠে। নদীর দুই পাড়ে বসবাসকারী কয়েকটি গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত—সবকিছুর জন্যই এই নদী পার হতে হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এখানে একটি সেতু নির্মাণ না হওয়ায় খেয়া নৌকাই হয়ে আছে পারাপারের একমাত্র মাধ্যম।

প্রতিদিন সকাল হলেই বই-খাতা হাতে স্কুলের পোশাক পরা শিক্ষার্থীদের খেয়াঘাটে ভিড় করতে দেখা যায়। নৌকা এলে একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থী নদী পার হয়। আবার নৌকা পেতে দেরি হলে ঘাটে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়। এতে অনেক সময় বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে দেরি হয়। স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার সময়ও একই ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের।

তিননান্দিনা হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল হক মাস্টার বলেন, ফুলজোড় নদীর ওপর সেতু না থাকায় শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যায়। বর্ষায় নদীতে পানি ও স্রোত বেড়ে গেলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। অনেক সময় নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পৌঁছাতেও দেরি হয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। শুধু শিক্ষার্থী নয়, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ দুই পাড়ের হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই নদী পারাপার করেন। একটি সেতু নির্মাণ হলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।

তিননান্দিনা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মতিন ও আব্দুল হামিদ বলেন, বর্ষাকালে নদীতে স্রোত বেড়ে গেলে নৌকায় পারাপার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ঝড়-বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। তারপরও প্রয়োজনের তাগিদে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়েই খেয়া নৌকায় নদী পার হতে হচ্ছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা প্রতিদিন নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। বর্ষার সময় নদী উত্তাল থাকলে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এখানে সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন। সেতু নির্মাণ হলে শুধু শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমবে না, দুই পাড়ের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও আমূল পরিবর্তন আসবে।

তিননান্দিনা স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সিফাত হোসেন ও সুমাইয়া খাতুন বলেন, প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার সময় খেয়া নৌকায় নদী পার হতে হয়। অনেক সময় নৌকা না থাকলে ঘাটে অপেক্ষা করতে হয়। বর্ষাকালে নদীতে পানি ও স্রোত বেশি থাকায় ভয় লাগে। এখানে একটি সেতু হলে স্কুলে যাতায়াত অনেক সহজ ও নিরাপদ হতো।

অভিভাবক মো. আলমাহমুদ বলেন, আমাদের সন্তানদের প্রতিদিন এই নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। বর্ষার সময় নদী উত্তাল থাকলে আমরা দুশ্চিন্তায় থাকি। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা জরুরি।

রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক তালুকদার বলেন, তিননান্দিনা এলাকায় ফুলজোড় নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্প অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেখানে সেতু নির্মাণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। সেতুটি নির্মাণ হলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত হবে।

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত এবং এলাকার সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের স্বার্থে ফুলজোড় নদীর ওপর দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক। সেতুটি নির্মাণ হলে তিননান্দিনা ও আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ হবে এবং কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটবে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করবে এবং ফুলজোড় নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেবে। এতে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ছেলের মৃত্যুর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে মারা গেলেন মা, একই কবরস্থানে দাফন

১

অসহায় ময়না বেগমের চলার পথে নতুন আশার আলো, পেলেন হুইলচেয়ার

২

বারহাট্টায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, র‍্যালি ও মহড়া

৩

বেলকুচিতে ইউপি সদস্যের পুকুরে বিষপ্রয়োগ, ৩ লক্ষ টাকার মাছ নিধন

৪

রায়গঞ্জে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় মহড়া

৫

সলঙ্গায় যৌথ অভিযানে দুই ব্যক্তি আটক, ৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার

৬

রায়গঞ্জে খাজা সাত পীরের মাজারের জমি নিয়ে বিরোধ, সমাধানে প্রশাসনের উদ্যোগ

৭

বৃষ্টি হলেই অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয় সালেহা বেগমকে

৮

রায়গঞ্জে কন্যাশিশু দিবস পালিত, বাল্যবিয়ে বন্ধে সচেতনতার আহ্বান

৯

রায়গঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ নিয়ে প্রেস কনফারেন্স

১০

বারহাট্টায় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতবিনিময়

১১

ঘুড়কার চার, চান্দাইকোনার দুই ওয়ার্ড নিয়ে নতুন ‘ভূঞাগাতী ইউনিয়ন’ গঠনের প্রস্তাব

১২

ফুলজোড় নদীর পুনর্জন্ম চান এলাকাবাসী সিএস মানচিত্র অনুযায়ী প্রবাহপথ পুনরুদ্ধার ও দূষণ বন্ধের দাবি

১৩

সিরাজগঞ্জে মা ইলিশ সংরক্ষণে যমুনা নদী ও মাছের বাজারে অভিযান

১৪

সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নির্দেশনা অনুসরণ না করায় তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি স্থগিত

১৫

মানচিত্রে নদীর পথ, বাস্তবে সংকট—ফুলজোড় উদ্ধারে সরব এলাকাবাসী

১৬

বেলকুচিতে দুর্গাপূজায় বাড়তি নিরাপত্তা, ৮৬ মণ্ডপে থাকবে বিশেষ নজরদারি

১৭

রায়গঞ্জে সাজাপ্রাপ্তসহ বিভিন্ন মামলার ৫ আসামি গ্রেপ্তার

১৮

রায়গঞ্জে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক পুনর্বাসনকাজের উদ্বোধন

১৯

শান্তিগঞ্জে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু

২০