মোঃ পারভেজ আলী , স্টাফ রিপোর্টার
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে ২০১৪ সালে বেলকুচি সদর ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় তলায় ‘বেলকুচি অটিজম স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। তৎকালীন পৌর মেয়র ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। কয়েক বছর পাঠদান কার্যক্রম চলার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্কুলটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে আর চালু হয়নি প্রতিষ্ঠানটি।
স্কুলটি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অভিভাবকেরা। তাদের অভিযোগ, এসব শিশুর জন্য সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ সীমিত। ফলে বেলকুচির এই স্কুলটিই ছিল তাদের সন্তানদের শিক্ষা, সামাজিকীকরণ ও মানসিক বিকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় শিশুরা অনেকটা ঘরবন্দী জীবনযাপন করছে।
অভিভাবকেরা জানান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা শুধু বই-পুস্তকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সহপাঠীদের সঙ্গে মেলামেশা, খেলাধুলা ও বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ তাদের সামাজিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্কুলটি চালু থাকলে শিশুদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেত। কিন্তু দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় সেই সুযোগ থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছে।
বেলকুচি সদর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘ইউপি ভবনে স্কুলটি চললেও বর্তমানে এটি বন্ধ রয়েছে। ভবনটি ইউনিয়ন পরিষদের হওয়ায় এখানে স্কুলটি চালু হবে কি না, তা স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিষয়। স্কুল চলাকালে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। স্কুল বন্ধ হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রায় ১৮ মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।’
বেলকুচি অটিজম স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তৎকালীন পৌর মেয়র ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহায়তায় আমরা পাঠদান শুরু করেছিলাম। কিন্তু নানামুখী টানাপোড়েনের কারণে স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায়। শত চেষ্টা করেও এটি চালু রাখতে পারিনি। পরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কক্ষ খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলে শিক্ষা উপকরণগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে স্কুলের সব কার্যক্রম বন্ধ। শিক্ষক-কর্মচারীরাও কর্মহীন হয়ে আছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য স্কুলটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। এটি চালু থাকলে শিশুরা শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেত।’
বেলকুচি পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান বলেন, ‘আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বেলকুচি অটিজম স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছিল। আমরা তদন্ত করে প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। স্কুলটি চালু থাকবে কি না, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
অভিভাবকেরা বলছেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি আর দীর্ঘসূত্রতায় না রেখে দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে স্কুলটি পুনরায় চালু করে শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।
এদিকে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থানও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে একদিকে যেমন ১০৮ শিশু শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ২০ জন শিক্ষক ও কর্মচারী।
মন্তব্য করুন