খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে এ বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে সভায় বিরোধে জড়িত দুই পক্ষের প্রতিনিধি, আইনজীবী, সাংবাদিক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিল ধামাই গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের বিল ধামাই গ্রামে অবস্থিত খাজা সাত পীরের মাজার ও ঈদগাহ মাঠসহ মোট ৪১২ শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধে এক পক্ষের প্রতিনিধি মাজারের খাদেম বখতিয়ার হোসেন শেখ (৫০) এবং অপর পক্ষের প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম শেখ (৪৯)। উভয় পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
সভায় জানানো হয়, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে মামলাটি হাইকোর্ট থেকে সিরাজগঞ্জের নিম্ন আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি করার জন্য নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আলোচনা সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে কোনো পক্ষ নতুন করে বিরোধে জড়ালে কিংবা আইন লঙ্ঘন করলে প্রশাসনের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া বিরোধপূর্ণ ৪১২ শতক জমির মধ্যে মাজারের অবস্থান ২০ শতক জমিতে। মাজারের অংশ বাদে অবশিষ্ট ফসলি জমিতে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) তত্ত্বাবধানে চাষাবাদ করা হবে। উৎপাদিত ফসল বিক্রির পর প্রাপ্ত লভ্যাংশ বিরোধে জড়িত দুই পক্ষের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মাজারের পরিবেশ ও ধর্মীয় কার্যক্রমের বিষয়ে সভায় বলা হয়, সেখানে কোনো ধরনের অশ্লীল কার্যকলাপ, গান-বাজনা, নৃত্য কিংবা মদ ও জুয়ার আসর পরিচালনা করা যাবে না। একই সঙ্গে মাজারে ভক্ত ও অনুসারীদের যাতায়াত এবং তাঁদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে কোনো পক্ষ বাধা দিতে পারবে না।
প্রশাসনের এ উদ্যোগের মাধ্যমে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমির ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন সংশ্লিষ্টদের নজর আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।
মন্তব্য করুন