খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে ২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জাঁকজমকপূর্ণভাবে চালু হয়েছিল সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটার (ওটি)। স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা ছিল, এবার ঘরের কাছেই মিলবে উন্নত ও জরুরি অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসাসেবা।
কিন্তু সেই স্বপ্ন বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। প্রয়োজনীয় সিজারিয়ান চিকিৎসক—বিশেষ করে সার্জন ও অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ—না থাকায় চালুর কিছুদিন পরই বন্ধ হয়ে যায় অপারেশন কার্যক্রম। বর্তমানে অপারেশন থিয়েটার কক্ষটি পুরোপুরি প্রস্তুত থাকলেও সেখানে কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার হচ্ছে না।
ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো।
স্থানীয়রা জানান, অপারেশন সেবা বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন গর্ভবতী নারী ও তাদের পরিবার। জরুরি মুহূর্তে রোগীদের এখন সিরাজগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল বা দূরবর্তী বেসরকারি ক্লিনিকে স্থানান্তর করতে হচ্ছে।
এর ফলে একদিকে যাতায়াত খরচ বেড়ে গেছে, অন্যদিকে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে মা ও নবজাতকের জীবনঝুঁকিও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রামিশা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“হাসপাতালে সব যন্ত্রপাতি আছে, ওটি রুমও প্রস্তুত। শুধু ডাক্তার নেই বলে আমাদের গরিব মানুষদের হাজার হাজার টাকা খরচ করে বাইরে যেতে হচ্ছে। হাসপাতালে ডাক্তার পদায়ন করা কি খুব কঠিন কাজ?”
তিনি আরও বলেন, জরুরি অবস্থায় জেলা সদরে নিতে দেরি হলে অনেক সময় পথে রোগীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, অপারেশন থিয়েটার সচল রাখার সব প্রস্তুতি রয়েছে।
তিনি বলেন,
“সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় সার্জন ও অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় সাময়িকভাবে সেবা বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। চিকিৎসক পদায়ন হলেই পুনরায় অপারেশন কার্যক্রম চালু করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত চিকিৎসক পদায়ন করে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটারটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষকে আর দূর-দূরান্তে গিয়ে চিকিৎসা নিতে না হয়।
মন্তব্য করুন