খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আদালতের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সরকারি জমি ও আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে বিল্লাল মাতুব্বর ও তার ভাই সিংগাপুর প্রবাসী মাইনুদ্দিন মাতুব্বরের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের ঘারুয়া গ্রামে।
স্থানীয় ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ৮৬ নং ঘারুয়া মৌজার বিএস ২২৩ নং খতিয়ানের দাগ নং ৭ ও ৮-এর মোট ১২ শতাংশ জমির মধ্যে ২ শতাংশ জমি সরকারিভাবে বরাদ্দ ছিল। আশ্রয়ন প্রকল্প-২-এর আওতায় ‘জমি আছে, ঘর নেই’ প্রকল্পের অধীনে ওই জমিতে একটি সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয় হতদরিদ্র বিল্লাল মাতুব্বরকে।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি ওই সরকারি ঘরটি ভেঙে ফেলে একই জায়গায় পাকা ভবন নির্মাণ শুরু করেন বিল্লাল মাতুব্বর ও তার ভাই মাইনুদ্দিন মাতুব্বর। বিষয়টি জানার পর ঘারুয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করতে বললে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘারুয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার সোহেল মিয়া বলেন, “সরকারি ঘর ভেঙে জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। একাধিকবার সতর্ক করার পরও তারা কাজ বন্ধ করেননি। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
এদিকে, বিল্লাল মাতুব্বরের বোন আমেনা খাতুন অভিযোগ করেন, তার নামে দলিলকৃত ৩ শতাংশ জমিও জোরপূর্বক দখল করেছেন তার দুই ভাই বিল্লাল ও মাইনুদ্দিন এবং তাদের ভাতিজা সাজ্জাদ মাতুব্বর। এ ঘটনায় তিনি গত ২৩ এপ্রিল ফরিদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত ২৬ এপ্রিল ওই জমির ওপর ১৪৪ ধারা জারি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে তার জমিসহ সরকারি জমিতে ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাধা দিতে গেলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, মাইনুদ্দিন মাতুব্বর বিদেশে অবস্থান করেও এলাকায় নানা অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করেন। তার বিরুদ্ধে পূর্বে মাদক সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও তারা জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে মাইনুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, বিল্লাল মাতুব্বরের স্ত্রী শান্তা বেগম সরকারি ঘর ভেঙে ভবন নির্মাণের বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ডালিম মিয়া জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৮ এপ্রিল ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৪৪ ধারা কার্যকর করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।
ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন