খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে নিমগাছী মৎস্য প্রকল্প কার্যালয় থেকে একটি ট্রাকে করে এসব নির্মাণসামগ্রী নেওয়া হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের মাস্টাররোলে কর্মরত কয়েকজন কর্মচারীকে দিয়ে খুঁটি ও কাটা তার ট্রাকে তোলা হয়। পরে ট্রাকটি মাসুদ সরকারের নিজ বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হলে স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি জানতে পেরে ট্রাকটি থামান।
স্থানীয়রা নির্মাণসামগ্রীগুলো সরকারি নাকি ব্যক্তিগত—তা জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘মাসুদ স্যার’ এসব সামগ্রী তাঁর বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেছেন। তবে সরকারি ছুটির দিনে প্রকল্প কার্যালয় থেকে এসব সামগ্রী বাইরে নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ট্রাকচালক আব্দুর রহমান খন্দকার বলেন, ‘খুঁটি ও তার কার, তা আমি জানি না। তবে মাসুদ স্যার আমাকে খুঁটি ও তারগুলো তাঁর বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেছিলেন। ভাড়ার চুক্তি অনুযায়ী মালামাল নিয়ে যাচ্ছিলাম। এসব পণ্য পরিবহনের কোনো কাগজপত্র আমাকে দেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিনিয়র সহকারী পরিচালক মাসুদ সরকার নিজে উপস্থিত থেকে খুঁটি ও তারগুলো গাড়িতে তুলে দিয়েছিলেন।’
নিমগাছী মৎস্য প্রকল্প কার্যালয়ের পাম্প অপারেটর মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অফিসের পুকুরে ওয়াল নির্মাণের জন্য খুঁটিগুলো তৈরি করা হয়েছিল। পরে সেখানে গাইড ওয়াল নির্মাণ করায় খুঁটিগুলো অফিসেই ছিল।’
অভিযোগের বিষয়ে সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ সরকার বলেন, ‘আমি নিজের টাকায় খুঁটি ও কাটা তার তৈরি করেছি।’ তবে তাঁর এ দাবির সমর্থনে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি বলে জানা গেছে।
সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জুব্বার বলেন, ‘মৌখিক অভিযোগ ও সরেজমিনে বিষয়টি জানার পর নিমগাছী মৎস্য প্রকল্প কার্যালয় থেকে বের হওয়া খুঁটি ও তারগুলো জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে। এরই মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’
নিমগাছী মৎস্য প্রকল্পের পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার তেমন জানা নেই। আমি মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’
রাজশাহী অঞ্চলের মৎস্য দপ্তরের পরিচালক মো. সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া বলেন, ‘আপনাদের সহকর্মীর মাধ্যমেই বিষয়টি জানতে পারলাম। তবে মাসুদ সাহেব ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।’
এদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে নিমগাছী মৎস্য প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ও তা জব্দের ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব খুঁটি ও তারের মালিকানা এবং প্রকল্পের সম্পদ সরানোর অনুমোদন ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হোক।
খুঁটি ও তারগুলো সরকারি সম্পদ, নাকি ব্যক্তিগত অর্থে তৈরি—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন