খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কছিম উদ্দিনকে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন গভীর রাতে আব্দুল মালেক তাঁর ভাড়া করা আরও দুই সহযোগীকে নিয়ে কছিম উদ্দিনকে নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে তাঁরা ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যান বলে পুলিশের ভাষ্য।
এ ছাড়া ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে কাকুলি নামে এক নারী কছিম উদ্দিনকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসতে সহযোগিতা করেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা মামলাটির অগ্রগতি পর্যালোচনাকালে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রহস্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। পরে তাঁদের নির্দেশনায় রায়গঞ্জ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল মামলাটির তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ জানায়, গত তিন মাসে ঘটনাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে নিবিড় গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার পাশাপাশি বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া সূত্র বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় টানা দুই রাত অভিযান চালিয়ে প্রথমে নিমগাছী এলাকা থেকে আব্দুল মালেককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী অভিযান চালিয়ে কাকুলি নামে অপর এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আব্দুল মালেক হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা কছিম উদ্দিন হত্যা মামলাটির রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তৎপরতা ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন