খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে এবার সোনালি আঁশ পাটের বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় খুশি কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়া ও পাটের ভালো ফলনে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। বাজারে পাটের দাম সন্তোষজনক থাকায় গত বছরের লোকসান অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন চাষিরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশের খাল, ডোবা ও নালা পানিতে পাট জাগ দেওয়া হচ্ছে। কোথাও চলছে পাট ধোয়া, আবার কোথাও বাড়ির উঠান ও খোলা জায়গায় রোদে শুকানো হচ্ছে সোনালি আঁশ। এতে গ্রামীণ জনপদে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য।
উপজেলার বর্মগাছা ইউনিয়নের কালিয়াবিল গ্রামের কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে পাটের দামও ভালো থাকায় উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভের মুখ দেখার আশা করছেন তারা।
কৃষক মো. আব্দুল আজিজ ফেকু বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। এতে গত বছরের লোকসান অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”
কৃষকেরা জানান, পাট চাষে খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়া গেলে এটি লাভজনক ফসল হিসেবে কৃষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাটের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে সরকারি সহযোগিতা আরও বাড়ানো হলে আগামীতে চাষিরা পাট চাষে আরও বেশি আগ্রহী হবেন।
এদিকে উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পাট চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। কৃষকদের সঠিক সময়ে বীজ বপন, পরিচর্যা, পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ সংরক্ষণ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষকেরা বলছেন, পাটের ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য ধরে রাখা গেলে আগামী মৌসুমে রায়গঞ্জে পাটের আবাদ আরও বাড়বে। এতে একদিকে কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে দেশের ঐতিহ্যবাহী সোনালি আঁশের উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মন্তব্য করুন