খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
এর আগে গত ৪ অক্টোবর ব্রিজটির ছাদ ঢালাইয়ের সময় পাথরের কিছু অংশে মাটি সদৃশ উপাদান, বালিতে ছোট ছোট পাথরের টুকরা ও সামান্য ময়লা বালি দেখা যায়। বিষয়টি নজরে আসার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তাৎক্ষণিকভাবে ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ করে দেন।
পরে একই দিন প্রকল্পের নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে লিখিতভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনায় জমাকৃত পাথরের কিছু অংশ পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার এবং বালি চালুনির মাধ্যমে স্ক্রিনিং করে মানসম্মত উপকরণ দিয়ে অবশিষ্ট ঢালাই কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়।
প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাথর পরিষ্কার ও বালি স্ক্রিনিং করার পর মঙ্গলবার স্থানীয় প্রশাসনের তদারকিতে পুনরায় অবশিষ্ট ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শুরু করে। কাজের সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করেন।
স্থানীয়রা জানান, নির্মাণকাজে প্রশাসনের এমন সরাসরি তদারকি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তারা দ্রুত ব্রিজটির বাকি কাজ শেষ করে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা নির্মাণ ব্যয়ে ব্রিজটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অতিবৃষ্টি ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নির্মাণকাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ব্রিজটি চালু হলে গোড়ল এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং দুর্যোগের সময় ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার বলেন, “নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রিজটির কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই।”
এদিকে ছাদ ঢালাইয়ের সময় উপস্থিত স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম চন্দু, ইউপি সদস্য লিটন মিয়া এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি আব্দুস সালাম, আনিছ মিয়া ও আলামিন মিয়া নির্মাণকাজের গুণগত মান দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন