খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
হাকিমপুর উপজেলার হিলিতে টানা কয়েকদিনের তীব্র তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে ঘনঘন লোডশেডিং যুক্ত হওয়ায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও দিনমজুর মানুষের কষ্ট বেড়েছে বহুগুণ।
প্রচণ্ড গরমে মাঠে কাজ করা শ্রমিক, রিকশা ও ভ্যানচালকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। একই সঙ্গে ডায়রিয়া, জ্বর ও হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, হিলিতে তাপমাত্রা ২৯ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরমের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে দিনের বেলায় রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবির হোসেন রাসেল বলেন, “এত গরমে বাইরে বের হওয়াই কষ্টকর। তার ওপর বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরেও থাকা যায় না। বিশেষ করে শিশুদের বেশি সমস্যা হচ্ছে।”
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা জানান, গরমের কারণে শিশুরা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। চিকিৎসকেরা স্যালাইন ও পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট থাকায় হাসপাতালে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
হরিণা গুমরা গ্রামের কৃষক সোহেল বাবু বলেন, “বিদ্যুৎ ঠিকমতো না থাকায় সেচ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”
হিলি বাজারের ওয়্যারিং ও লেদ ব্যবসায়ী রনি হোসেন জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় সময়মতো কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে এবং অর্ডার সরবরাহে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
বাসুদেবপুর ক্যাম্পপট্টি গ্রামের অটোরিকশা চালক ফারহান মিতুল বলেন, “লোডশেডিংয়ের কারণে গাড়ি চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। এতে আয় কমে গেছে এবং জীবিকা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”
হাকিমপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জোনাল কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী জানান, উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র আড়াই থেকে ৩ মেগাওয়াট। এ কারণে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, তাপমাত্রা এভাবেই ওঠানামা করবে এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরমের তীব্রতা আরও বাড়বে।
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তাত্তহীদ জামান বলেন, “গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। সবাইকে বেশি করে পানি ও তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
তীব্র গরম ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ে হিলির মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন