খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
সামিদুল জানান, এক রাতে তিনি স্বপ্নে দেখেন—তার বাড়ির পাশেই নির্মাণ হচ্ছে বিশাল একটি তিনতলা মসজিদ। নীল আকাশের নিচে মসজিদের গম্বুজ ঝলমল করছে। দৃশ্যটি এতটাই স্পষ্ট ও বাস্তব ছিল যে ঘুম ভাঙার পরও তিনি দীর্ঘ সময় মুগ্ধ হয়ে বসে থাকেন।
পরদিন বিষয়টি স্থানীয় এক আলেমকে জানালে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “তুমি তো গরিব মানুষ, এত বড় কাজ কীভাবে করবে?”
কিন্তু স্বপ্ন থেমে থাকেনি। রাতের পর রাত একই দৃশ্য ফিরে এসেছে তার মনে। তিনি দেখতে পান—মসজিদ দাঁড়িয়ে আছে, মানুষ সেখানে নামাজ আদায় করছে। একপর্যায়ে আর নিজেকে থামাতে পারেননি সামিদুল। সিদ্ধান্ত নেন, স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবেনই।
তার হাতে ছিল না কোনো বড় সঞ্চয় কিংবা অর্থসম্পদ। ছিল শুধু অদম্য বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস থেকেই প্রথমে নিজের পালিত গরু বিক্রি করেন। এরপর একে একে বিক্রি করেন বসতভিটা, জমি ও সামান্য যা কিছু সম্পদ ছিল।
তিনি ৪০ হাজার টাকা শতক দরে জমি কিনতে শুরু করেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে মসজিদের জন্য জমি ক্রয় করেন বলে জানান। নিজের থাকার ঘরটুকুও বিক্রি করতে হয়েছে তাকে। বর্তমানে একটি ভাঙা ঘরে বসবাস করলেও তার বুকজুড়ে এখনো বেঁচে আছে তিনতলা স্বপ্নের মসজিদ।
নিজের ভাঙা ঘরের চৌকাঠে বসে সামিদুল ইসলাম বলেন, “স্বপ্নে যেভাবে দেখেছি, আল্লাহর ঘরটা একদিন ঠিকই দাঁড়াবে। একা পারব না, সবাই পাশে দাঁড়ালে কাজটা অনেক দূর এগোবে। আমি যা ছিল সব দিয়েছি—এবার মানুষের সাহায্য চাই।”
তার কণ্ঠে ছিল অটুট আশাবাদ।
স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, “এমন ত্যাগ এখন খুব কমই দেখা যায়। মানুষ যদি একটু এগিয়ে আসে, তাহলে দ্রুতই মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হবে।”
রামপুরা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “এটি সত্যিই একটি মহৎ উদ্যোগ। দরিদ্র মানুষ হয়েও সামিদুল ইসলাম যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। সমাজের বিত্তবানদের তার পাশে দাঁড়ানো উচিত।”
ধূলিমাখা মাঠে এখন দাঁড়িয়ে আছে সামিদুল ইসলামের স্বপ্নের ভিত্তি। সামনে আরও দীর্ঘ পথ। প্রয়োজন অর্থ, প্রয়োজন সহযোগিতা, প্রয়োজন মানুষের ভালোবাসা।
স্বপ্নের মসজিদ নির্মাণে সামিদুল ইসলামের আকুল আবেদন—“আসুন, সবাই মিলে আল্লাহর ঘর নির্মাণে অংশ নিই।”
মন্তব্য করুন