খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের সড়াতৈল গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ফুলজোর শাখা নদীর ওপর প্রায় তিন বছর আগে একটি সেতু নির্মাণ করা হলেও আজও সংস্কার হয়নি এর দুই পাশের সংযোগ সড়ক। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ ও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে অন্তত ১০ গ্রামের হাজারো মানুষকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরের দাবির প্রেক্ষিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ফুলজোর শাখা নদীর ওপর ৫০ ফুট দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতুটি নির্মিত হওয়ার পর এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের পারাপারের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় গাইডওয়াল নির্মাণ না হওয়ায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর উভয় পাশের সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষার বৃষ্টিতে কাদায় একাকার হয়ে পড়েছে সড়কটি। কোথাও কোথাও মাটি ধসে যাওয়ায় সড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গাইডওয়াল না থাকায় নদীর তীর ভেঙে সড়কের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী, কৃষক, রিকশা, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনারও শিকার হচ্ছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নান তালুকদার ও বাবলা তালুকদার বলেন, "দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির পর আমরা সেতু পেয়েছি। কিন্তু সংযোগ সড়কের এমন বেহাল অবস্থার কারণে সেতুর সুফল থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। দ্রুত সড়ক সংস্কার ও গাইডওয়াল নির্মাণ করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।"
স্থানীয় শিক্ষার্থী সায়মা ও রাতুল জানায়, প্রতিদিন বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে তাদের অনেক কষ্ট হয়। সড়কের গর্ত, কাদা ও ভাঙা অংশ পেরিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই বিপাকে পড়তে হয়। তারা বলেন, আগে নদী পার হতে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হতো। এখন সেতু হলেও সংযোগ সড়কের কারণে দুর্ভোগের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক সংস্কার, গাইডওয়াল নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করা হলে প্রায় ১০ গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে এবং নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত হবে।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সংযোগ সড়কের সমস্যার বিষয়টি তার নজরে এসেছে। বিষয়টি দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন