খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খৈচালা গ্রামের ভ্যানচালক ছাইদুল ইসলামের বাড়িতে ৪ থেকে ৬ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত প্রবেশ করে। তারা প্রথমে বাড়ির বাইরের বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে দেয়। বাতি নিভে যাওয়ায় ছাইদুল ইসলামের স্ত্রী বাইরে বের হয়ে দরজা খুললে দুর্বৃত্তরা জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে ছাইদুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে বেঁধে ফেলে।
এরপর ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি করে। চাহিদামতো টাকা ও স্বর্ণালংকার না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে নারী সদস্যদের ধর্ষণ এবং পরিবারের সদস্যদের হত্যা করার হুমকি দিয়ে পাশের বাড়ির বাসিন্দা ও খৈচালা আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী মো. আকতার হোসেনকে মোবাইল ফোনে ডেকে আনতে বাধ্য করা হয়।
আকতার হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি রেখে নির্যাতন ও লুটপাট চালানোর পর দুর্বৃত্তরা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। তবে কী পরিমাণ মালামাল লুট হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত আকতার হোসেনকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে সিরাজগঞ্জ শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মন্তব্য করুন