খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই একই গ্রামের প্রবাসফেরত আব্দুল হান্নানের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একই গ্রামের চাঁন মিয়া খলিফার ছেলে মো. সোহাগ হোসেনকে (২৫) সন্দেহ করা হয়। ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে সোহাগ হোসেন ভুইয়াগাঁতী বাজার থেকে বাজার করে হান্নানের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে চুরির অপবাদ দিয়ে আটক করা হয়। পরে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর এবং পায়ের নখ তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্যাতনের একপর্যায়ে সোহাগের মোবাইল ফোনে ডায়াল করা একটি নম্বরে একই গ্রামের বাদশা খলিফার নাম দেখতে পান অভিযুক্তরা। পরে বাদশা খলিফাকে তার বাড়ি থেকে জোরপূর্বক ধরে এনে তাকেও গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সোহাগ হোসেনের শ্বশুর আশরাফ আলী খলিফা বাদী হয়ে গত ১১ আগস্ট ২০২৬ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় মো. বাদশা খলিফা (৪০), মোহাম্মদ আলী (৫৮), মো. রফিকুল ইসলাম খলিফা (৫৮), আব্দুল হান্নান (৪০), জাহাঙ্গীর (৩০), আমিনুল (২৮)সহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সোহাগের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার দিন তার স্বামী বাজার করে বাড়ি ফেরার পথে বাদশা, হান্নান, আমিনুল ও জাহাঙ্গীর তাকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। তিনি বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর এবং ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর শ্বশুর আশরাফ আলী খলিফা বলেন, “মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে আমার মেয়ের জামাইকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি তার পায়ের নখ তুলে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, “এ সংক্রান্ত কোনো মামলা আমাদের থানায় নেই। মামলা আসলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন