খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন রোপা আমনের সবুজের সমারোহ। বাতাসে দুলছে ধানগাছের সবুজ পাতা ও কাঁচা শীষ। কয়েকদিন পরই এসব শীষে দুধ দানা গঠন শুরু হবে। মাঠের পর মাঠ সবুজ ধানক্ষেত দেখে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও নিবিড় পরিচর্যায় এবার আমনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশাবাদী কৃষি বিভাগও।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বারহাট্টায় ১১ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে। এ থেকে ৩৯ হাজার ৭৮৯ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ বছর অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার অনেক নিচু জমি দীর্ঘ সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকায় আমন চাষ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। পানি সরে যাওয়ার পরপরই কৃষকরা নিচু জমিতে ধানের চারা রোপণ করেন। আর উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে লাগানো ধান এখন কুশি গজানোসহ বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। অধিকাংশ জমিতে বর্তমানে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগের সময় চলছে। এ জন্য উপজেলায় ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলেও জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
এদিকে, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের বন্যা না হওয়া এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা সময়মতো জমিতে সার, কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করতে পারছেন। জমি থেকে আগাছা পরিষ্কার, সেচ দেওয়া এবং পোকামাকড় দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও পার্চিং পদ্ধতিও ব্যবহার করছেন কৃষকরা।
সম্প্রতি উপজেলার বারহাট্টা সদর, চিরাম, রায়পুর ও সাহতা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে রোপা আমনের সবুজ ঢেউ। ধানক্ষেতের পরিচর্যায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। সবুজ ধানগাছের মাঝে কাঁচা শীষ দেখে অনেকের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আশার ঝিলিক।
উপজেলার অতিথপুর এলাকার কৃষক বাবুল তালুকদার বলেন, “এ বছর সার ও বীজ সঠিক সময়ে পেয়েছি। সময়মতো বৃষ্টিও হয়েছে। ফলে ধানের ক্ষেত বেশ ভালো হয়েছে। গাছ সবল ও সতেজ রয়েছে এবং কোথাও কোথাও শীষও বের হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার ধানের ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি।”
সাহতা গ্রামের কৃষক কামাল মিয়া বলেন, “ধারদেনা করে ধান রোপণ করেছি। আশা করছি এবার ভালো ফলন পাব। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ধান উৎপাদন করে কিছুটা লাভের মুখ দেখব।”
বারহাট্টা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, “এ বছর আমনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আমরা আশা করছি। কৃষকদের ভালো ফলন নিশ্চিত করতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।”
মন্তব্য করুন