খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
সেদিন সকালে কাজ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ভবনটিতে কম্পন অনুভূত হয়। অনেক শ্রমিক ভয় পেলেও তাদের কাজে ফিরতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই ভবনটি ধসে পড়ে, চাপা পড়ে যান হাজারো মানুষ। চারদিকে ধুলোয় ঢেকে যায় আকাশ, শুরু হয় হৃদয়বিদারক আর্তনাদ।
এই দুর্ঘটনায় এক হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং আহত হন দুই হাজারেরও বেশি। অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক, যারা পরিবার চালানোর একমাত্র ভরসা ছিলেন।
ধসের পরপরই শুরু হয় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান। সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী টানা কয়েকদিন ধরে ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার তৎপরতা চালান। অনেককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অসংখ্য প্রাণ আর ফিরিয়ে আনা যায়নি।
ঘটনার পর দেশ-বিদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিছু ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হলেও এখনো অনেক পরিবার অভিযোগ করছে—তারা পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পায়নি এবং বিচার প্রক্রিয়াও দীর্ঘসূত্রতায় আটকে আছে।
বেঁচে থাকা শ্রমিক ও নিহতদের স্বজনদের দাবি, দোষীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ পুনর্বাসন দিতে হবে। অনেক পরিবার এখনো আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
শ্রমিক সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই ঘটনার পূর্ণ বিচার না হওয়ায় শিল্পখাতে নিরাপত্তা ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি। যদিও পরবর্তীতে কারখানা নিরাপত্তা ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে কিছু সংস্কার হয়েছে, তবে বাস্তবায়নে এখনো ঘাটতি রয়ে গেছে।
দিবসটি উপলক্ষে সাভারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। শ্রমিক সংগঠন, অধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন এবং পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন—শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি দাবি।
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়; এটি অবহেলা, দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। এক যুগ পরেও সেই ঘটনার বিচার ও ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় রয়েছেন অসংখ্য পরিবার।
তাদের কণ্ঠে আজও ধ্বনিত হয়—
“আমরা শুধু সহানুভূতি নয়, চাই ন্যায়বিচার।”
মন্তব্য করুন