খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
শফিকুল ইসলাম উপজেলার তালম ইউনিয়নের বড়ইচড়া গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তালম ইউনিয়নের গোন্তা গ্রামের পাশের একটি কৃষিজমিতে দেখা যায়, একটি ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ ও মই দেওয়ার কাজে ব্যস্ত তিনি। ঘোড়াটিকে পরম যত্নে সামলিয়ে জমির মাটি সমান করছিলেন শফিকুল।
কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, জীবিকার তাগিদে প্রায় পাঁচ বছর আগে ২৪ হাজার টাকা দিয়ে একটি ঘোড়া কিনেছিলেন তিনি। এরপর থেকেই ঘোড়াটিকে দিয়ে বিভিন্ন কৃষকের জমি চাষ ও মই দেওয়ার কাজ করে আসছেন। বর্তমানে এই ঘোড়াটিই তাঁর আয়ের অন্যতম মাধ্যম।
শফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতি বিঘা জমিতে ঘোড়া দিয়ে মই দিতে ২৫০ টাকা করে নিই। দিনে প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে মই দেওয়া যায়। এতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২৫০ টাকা আয় হয়।”
তিনি আরও জানান, আমন ও বোরো—দুই মৌসুম মিলিয়ে ঘোড়া দিয়ে প্রায় ৬০ হাজার টাকা আয় করেন। এছাড়া বছরের বিভিন্ন সময় বীজতলা তৈরির কাজেও ঘোড়াটিকে ব্যবহার করেন তিনি। কৃষিকাজের পাশাপাশি ঘোড়াটি তাঁর পরিবারের জীবিকা নির্বাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, একসময় গ্রামবাংলার মাঠে গরুর হাল ছিল কৃষিকাজের অন্যতম প্রধান ভরসা। সময়ের সঙ্গে সেই জায়গা দখল করেছে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার। ঘোড়া দিয়ে জমি চাষের দৃশ্য এখন খুবই বিরল। তাই শফিকুলের এই ব্যতিক্রমী পদ্ধতি স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, “কৃষকরা বর্তমানে আধুনিক ও যান্ত্রিক পদ্ধতিতে জমি চাষাবাদ করেন। ঘোড়া দিয়ে জমি চাষের ঘটনা এখন সচরাচর দেখা যায় না। কৃষক শফিকুল ইসলাম নিজের প্রয়োজনে ও বাড়তি আয়ের জন্য ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ ও মই দিচ্ছেন। এটি তাঁর নিজস্ব উদ্যোগ। তবে কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকদের আধুনিক ও উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে চাষাবাদ করার পরামর্শ দিয়ে থাকে।”
আধুনিকতার দাপটে কৃষিক্ষেত্র যখন পুরোপুরি যন্ত্রনির্ভর হয়ে উঠছে, তখন ঘোড়ার হালকে জীবিকার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়ে শফিকুল যেন গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া কৃষির এক পুরোনো স্মৃতিকেই ধরে রেখেছেন।
মন্তব্য করুন