খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় একটি খাবার হোটেলে ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আশরাফুল ইসলাম হাসু ও তার ছোট ভাই জামায়াত নেতা আলী হাসানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় বুধবার সকালে উপজেলার চড়িয়া কান্দিপাড়া সামাজিক উন্নয়ন ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী পরিবার ও হোটেল মালিকের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম হাসু, তার ছোট ভাই জামায়াত নেতা আলী হাসান এবং আহমাদ আলী দীর্ঘদিন ধরে সিআরবিসি এলাকার দই-মিষ্টি ও খাবার ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম ফকিরের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতার কারণে আব্দুল হাকিম চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর ক্ষুব্ধ হন অভিযুক্তরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আশরাফুল ইসলাম হাসু ও আলী হাসানসহ কয়েকজন লোক নিয়ে শামিম হোটেলে হামলা চালানো হয়। এ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভেকু মেশিন দিয়ে হোটেলে ভাঙচুর চালানো হয়। পাশাপাশি হোটেলের মালামাল লুটপাট ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
আব্দুল হাকিম ফকিরের ছেলে শামিম হাসান বলেন, “চাঁদা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে আমাদের হোটেলে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের মারধর করা হয়। ঘটনার সময় সলঙ্গা থানায় খবর দেওয়া হলেও পুলিশের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর সহযোগিতা পাইনি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তিন দিন পার হয়ে গেলেও সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
হোটেল মালিক আব্দুল হাকিম ফকির জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে মহাসড়ক সংলগ্ন সিআরবিসি এলাকায় ‘শামিম হোটেল’ নামে তার দই, মিষ্টি, পুরি, সিঙ্গারা ও পরোটার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ওই রাতেই সলঙ্গা থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০-৫০ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম হাসু, আলী হাসান ও আহমাদ আলীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
মন্তব্য করুন