খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
সরেজমিনে উপজেলার মিরকামারী, জয়নগর, মানিকনগর, বক্তারপুর, জগন্নাথপুর, চরসাহাপুর, সাহাপুর, আওতাপাড়া ও বাঁশেরবাদা এলাকায় ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। অধিকাংশ বাগানেই গাছ থেকে অকালেই লিচুর গুটি ঝরে পড়ছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে প্রায় ৩১০০ হেক্টরের বেশি জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। তবে বর্তমান খরা ও দাবদাহ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে উৎপাদন ৩০ শতাংশেরও বেশি কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাষিরা জানান, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত সেচ ও কীটনাশক স্প্রে করেও গুটি ঝরে পড়া পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। এতে করে বাগান নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামের লিচু চাষি মোস্তফা জামান বিশ্বাস নয়ন বলেন, “এ বছর বাগানে প্রচুর মুকুল এসেছিল। আশা ছিল আগের লোকসান পুষিয়ে নেওয়া যাবে। কিন্তু তীব্র খরায় গুটি ঝরে যাওয়ায় আবারও ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।”
জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক আব্দুল জলিল কিতাব মণ্ডল, যিনি ‘লিচু কিতাব’ নামে পরিচিত, জানান—খরার পাশাপাশি সার ও কীটনাশকের উচ্চমূল্যও কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে অনেকেই ঠিকমতো বাগানের পরিচর্যা করতে পারছেন না, ফলে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়া পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, এপ্রিলের শুরু থেকেই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী দুই সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মোমিন বলেন, “প্রথমদিকে গাছে ভালো মুকুল থাকলেও তীব্র দাবদাহে গুটি ঝরে পড়া শুরু হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দেওয়ার বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের অন্যতম লিচু উৎপাদন অঞ্চল ঈশ্বরদীতে এ বছর বড় ধরনের ফলন বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন