খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
নিহত শেখ রাজু ইসলাম সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার মৌতলা গ্রামের বাসিন্দা এবং শেখ নুর ইসলামের ছেলে। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী হ্যাপি আক্তার ভাঙ্গা পৌরসভার আতাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।
নিহতের স্ত্রী হ্যাপি আক্তার জানান, সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় তার স্বামী অসুস্থতার কথা বলেন এবং মৃত্যুর আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন। পরে তিনি স্কুলে গেলে বাসায় ফিরে স্বামীকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় বাসায় তাদের দুই শিশু কন্যা ছাড়া আর কেউ ছিল না। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে মরদেহ নিচে নামান।
নিহতের ভাই শেখ রাজ্জাক জানান, সকালে তাদের মা ফোন করে দ্রুত ভাঙ্গায় যেতে বলেন। পরে বাসায় গিয়ে তিনি ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পান।
নিহতের মা রাশিদা বেগম জানান, দুপুরে তার ছেলে ফোন করে হতাশার কথা জানায়। ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন।
প্রতিবেশী অ্যাডভোকেট ইকরাম আলী শিকদার বলেন, পারিবারিক কলহের কারণে দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলছিল এবং স্থানীয়ভাবে তা মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সফল হয়নি।
ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিব বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সহকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে। খবর পেয়ে ভাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা অফিস ও গোপালগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। ভাঙ্গা সরকারি কেএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোশায়েদ হোসেন ঢালী বলেন, রাজু ইসলাম সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে সবাই স্তম্ভিত।
মন্তব্য করুন