খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে এক মর্মান্তিক ঘটনায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন বলে পরিবারের দাবি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাটি ভিন্ন—ছেলেই নাকি বাবার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন।
শনিবার উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাহেরচর আশ্রয়ণ প্রকল্পে (ভৌগোলিকভাবে ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের ফুলখালী গ্রাম) এ ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শাওন হাওলাদার (২২) স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে বসতঘরের ভেতর নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার বাবা মো. হারুন অর রশীদ হাওলাদার (৫০) গুরুতর দগ্ধ হন। আগুনে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, শাওন তার স্ত্রী জান্নাতকে মারধর করছিলেন। এতে বাধা দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বাবার শরীরেই পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে পরিবার ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ তাদের।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে দগ্ধ হারুন অর রশীদ বলেন, “ছেলের সঙ্গে পুত্রবধূর ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ছেলে নিজের গায়ে আগুন দেয়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আমি দগ্ধ হই।”
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, ঘরগুলো পাশাপাশি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ছিল। তবে স্থানীয়দের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, শাওন মাদকাসক্ত এবং এর আগেও তিনি এমন অস্বাভাবিক আচরণ করেছেন। তবে অভিযুক্ত শাওন দাবি করেন, স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে তিনি নিজেই আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তা নেভাতে গিয়ে তার বাবা দগ্ধ হন।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “ঘটনার খবর পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, দুই-তিন বছর আগে শাওনের বিয়ে হয় এবং তাদের একটি সন্তান রয়েছে।
মন্তব্য করুন