মো. লুৎফর রহমান , হিলি স্থল বন্দর প্রতিনিধি, দিনাজপুর।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
জানা গেছে, গত ৫ জুলাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে এক সাংবাদিককে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন। পরে ‘ইউএনওকে স্যার বললে আমাকেও বলতে হবে’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। একই সঙ্গে ঘটনাসংশ্লিষ্ট একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নার্সরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। তবে স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দোষ প্রমাণ এবং বিতর্ক সামাল দিতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মানববন্ধনে অংশ নিতে গিয়ে হাসপাতালের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ কর্মস্থল ছেড়ে বাইরে অবস্থান করায় প্রায় এক ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা আংশিকভাবে ব্যাহত হয়। এতে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের অপেক্ষা করতে হয় এবং ভোগান্তির শিকার হতে হয়। কয়েকজন সেবাপ্রার্থী জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও কর্মীদের নির্ধারিত সময়ে না পেয়ে তারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সম্মান ও পেশাগত সৌজন্যের ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। অতীতে এ দপ্তরের কোনো কর্মকর্তাই তথ্য প্রদান বা সাক্ষাৎকারের জন্য ‘স্যার’ কিংবা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করাকে বাধ্যতামূলক করেননি। তাই এ ধরনের মন্তব্য সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও পেশাগত মর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন মুঠোফোনে গণমাধ্যমকর্মীকে বলেন, “আমি সাক্ষ্য দিতে ঢাকায় অবস্থান করছি। মানববন্ধনের বিষয়ে আমাকে কর্মসূচি শুরুর কিছুক্ষণ আগে জানানো হয়েছে। এটি আমার নির্দেশে হয়নি।”
চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার জানা মতে চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি বন্ধ ছিল না। তখন বৃষ্টি হওয়ায় রোগীর উপস্থিতিও কম ছিল। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ হয়েছে বলেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের উদ্যোগে মানববন্ধন করেছেন।”
এ বিষয়ে দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল মুঠোফোনে গণমাধ্যমকর্মীকে বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কে কীভাবে সম্বোধন করবেন, সেটি ব্যক্তিগত বিষয়। তবে মানববন্ধনের বিষয়ে আমাকে কেউ অবহিত করেননি।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহল, সেবাপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সরকারি হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন এবং একই সময়ে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
মন্তব্য করুন