খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সোনাখাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম আটঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকারকে অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রায়গঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বেলাল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এস এম আবু জুবায়ের ও জহুরা তহুর।
এ সময় বক্তব্য দেন পশ্চিম আটঘরিয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পংকজ তালুকদার, নিমগাছী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহমুদ এবং কুড়মালি ভাষার লেখক ও গবেষক উজ্জ্বল কুমার মাহাতো। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষকের প্রকৃত অর্জন শুধু তাঁর চাকরিজীবনের মেয়াদে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁর হাতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের জীবন ও ভবিষ্যতের মধ্যেই সেই অর্জনের প্রতিফলন ঘটে। আব্দুল মতিন সরকার দীর্ঘ কর্মজীবনে দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর মমত্ববোধ এবং পাঠদানের প্রতি একাগ্রতা তাঁকে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছে একজন প্রিয় শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিদায়ী বক্তব্যে আব্দুল মতিন সরকার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা জীবন শেষ করতে পেরেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরাও প্রিয় শিক্ষককে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে। তারা জানায়, আব্দুল মতিন সরকার অত্যন্ত যত্ন ও আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের পড়াতেন। কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়লে তিনি আলাদাভাবে সময় দিয়ে বুঝিয়ে দিতেন। তাঁর স্নেহ ও শাসন শিক্ষার্থীদের কাছে ছিল আপনজনের মতো।
শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে প্রিয় শিক্ষকের প্রশংসা এবং সহকর্মীদের স্মৃতিচারণে পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে বিদায় দিতে গিয়ে অনেকের কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে।
পরে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয়। কর্মজীবনের শেষ দিনে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিদ্যালয় ছাড়েন তিনি। তবে তাঁর হাতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে তাঁর শিক্ষকতার স্মৃতি দীর্ঘদিন অমলিন থাকবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত সবাই।
মন্তব্য করুন