খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
গাজীপুরের টঙ্গী অঞ্চলে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছে এবং প্রতিদিন শত কোটি টাকারও বেশি মাদক লেনদেন হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী একটি চক্র রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে এই ব্যবসা পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের যোগসাজশে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের মতে, দেশের মোট মাদক বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ টঙ্গীকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। এমনকি এ অঞ্চলের বহু মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে মাদক এখন টঙ্গীর অন্যতম বড় সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই হামলার শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ রেভল্যুশন’-এর ১০ জন কর্মী মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় আহত হয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক ক্ষেত্রে সংবাদকর্মীদের জন্যও টঙ্গীতে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও হামলার বাইরে নন। মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে পুলিশ কনস্টেবল রাহাত হোসেন হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে, যা মাদক সিন্ডিকেটের দুঃসাহসিকতারই প্রতিফলন।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মাহাবুব-উজ জামান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, “আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন বস্তি ও মাদক স্পট থেকে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছি। তবে প্রায় ২০ লক্ষাধিক মানুষের এই এলাকায় সীমিত সংখ্যক পুলিশ দিয়ে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা চ্যালেঞ্জিং।”
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা না করলে টঙ্গীকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন