খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলায় তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নদীতীরবর্তী হাজারো মানুষ। ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় একের পর এক বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, ফলে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন বহু পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন নদীসংলগ্ন এলাকায় হঠাৎ করে শুরু হওয়া ভাঙনে অনেক পরিবার রাতারাতি ঘরবাড়ি হারিয়ে ফেলেছেন। কেউ বাঁধের ওপর, কেউ খোলা মাঠে, আবার কেউ আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। মানবেতর জীবনযাপন করছেন এসব পরিবার।
ভুক্তভোগী আব্দুল হালিম (৪০) বলেন,
“এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি, জমি—কিছুই আর নেই। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাবো বুঝতে পারছি না।”
একই এলাকার আরেক বাসিন্দা জানান, নদীভাঙনের কারণে শুধু বসতভিটাই নয়, কৃষিজমিও হারিয়ে জীবিকা সংকটে পড়েছেন তারা। অনেকের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল এই জমি, যা এখন নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একইভাবে নদীভাঙন দেখা দিলেও এখনো স্থায়ী কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অস্থায়ীভাবে বালুর বস্তা ফেলা হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হচ্ছে না।
নদীভাঙনকবলিত পরিবারগুলো দ্রুত পুনর্বাসন, জরুরি ত্রাণ সহায়তা এবং স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও বহু পরিবার একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এখনই টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ না করলে উলিপুরের নদীভাঙন পরিস্থিতি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
মন্তব্য করুন