খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় কৃষকদের সহায়তায় সরকারের চালু করা ফুয়েল কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জুয়েল রানা ফুয়েল কার্ডের আবেদন ফরম জমা নেওয়ার সময় কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিচ্ছেন। ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, ‘অনলাইন খরচ’ বা ‘প্রসেসিং ফি’ দেখিয়ে প্রতি আবেদনকারীর কাছ থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। টাকা না দিলে ফরম গ্রহণ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে জগন্নাথগঞ্জ ঘাট এলাকার ‘রানা এন্টারপ্রাইজ’ এবং কাওয়ামারা এলাকার ‘আলমের দোকান’সহ কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে ফরম ও টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে অন্তত ২০০ জন কৃষকের কাছ থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এ বিষয়ে কাওয়ামারা এলাকার ব্যবসায়ী আলম মিয়া বলেন, “কৃষি কর্মকর্তার নির্দেশে আমার দোকানে ফরম ও টাকা জমা নেওয়া হয়েছে। আমি শুধু সেগুলো সংগ্রহ করে তার কাছে পৌঁছে দিয়েছি।”
রানা এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুল গণি মিয়া জানান, তার প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর মাধ্যমে ফরম জমা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জুয়েল রানা বলেন, “আমি কোনো অবৈধভাবে টাকা নেইনি। কিছু কৃষক ফরম পূরণ করতে না পারায় তাদের সহযোগিতা করতে ২০ থেকে ৩০ টাকা নেওয়া হয়েছে।”
তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ বলেন, “ফুয়েল কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ায় কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জ্বালানি সংকটের সময়ে কৃষকদের সহায়তায় নেওয়া সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযোগ উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন