খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
সরেজমিনে রুদ্রপুর চাকিপাড়া থেকে সোনারাম দুক্কি মরা বটতলা পর্যন্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যেখানে একসময় স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সচল কাঁচা সড়ক ছিল। এর মধ্যে এক কিলোমিটার অংশ এখন ধান ও অন্যান্য ফসলের খেতে পরিণত হয়েছে। সড়কের কোনো চিহ্ন বা অবশিষ্টাংশও আর চোখে পড়ে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই পাশের জমির মালিকেরা নিজেদের সীমানা বাড়াতে বাড়াতে পুরো রাস্তাটিই দখল করে নিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা বাঐখোলা মণ্ডল বাড়ির নিজামুদ্দিন মণ্ডল জানান, এই সড়কটি ছিল রুদ্রপুর চাকিপাড়া, বাঐখোলা, সোনারামপুর ও দেবরাজপুরসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষের মূল সড়কে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। এর মধ্যে চাকিপাড়া থেকে হাবিলাগাড়ি পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তার অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও অবশিষ্ট এক কিলোমিটার, অর্থাৎ হাবিলাগাড়ি থেকে দুক্কি মরা বটতলা পর্যন্ত অংশ পুরোপুরি নিখোঁজ হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, সড়কটি হারিয়ে যাওয়ার পর থেকে এলাকার মানুষকে এখন মাইলের পর মাইল পথ ঘুরে বিকল্প রাস্তায় চলাচল করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও পথচারীরা। ফসলি জমি থেকে উৎপাদিত পণ্য আনা-নেওয়ার মতো সাধারণ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
স্থানীয় ভুক্তভোগী আব্দুস সালাম বলেন, “এখানে একটা আস্ত রাস্তা ছিল, যা দিয়ে আমরা নিয়মিত যাতায়াত করতাম। কিন্তু পাশের জমির মালিকেরা রাতের আঁধারে এবং বিভিন্ন সময়ে মাটি কেটে কেটে রাস্তাটা একদম শেষ করে দিয়েছে। এখন আমাদের অন্যের জমির আইল দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। বর্ষাকালে দুর্ভোগের কোনো শেষ থাকে না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, সড়কের পাশের জমির মালিকেরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। পর্যায়ক্রমে লাঙল ও কোদাল দিয়ে মাটি কেটে রাস্তার জমি নিজেদের চাষাবাদের আওতায় নিয়ে এসেছেন তারা। সরকারি সম্পত্তি এভাবে প্রকাশ্যে দখল করে নেওয়ার পরও দীর্ঘদিন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অবিলম্বে সরকারি এই সম্পত্তি দখলমুক্ত করে রাস্তাটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ বিনষ্টকারী ও রাস্তা দখলকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে চান্দাইকোনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি রাস্তা কেটে ব্যক্তিগত জমিতে রূপান্তর করা সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত সীমানা নির্ধারণ এবং রাস্তাটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তারা।
চান্দাইকোনা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, জরুরি ভিত্তিতে সরকারি রাস্তা দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল খালেক পাটোয়ারী জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সরকারি রাস্তা দখল বা বিলীন করে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করা হবে। যদি কেউ সরকারি রাস্তা দখল করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি রাস্তা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
মন্তব্য করুন