খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
মানব পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া কার্যকর কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম।
তিনি বলেন, অনেকেই সরকারি নিয়ম-কানুন অনুসরণ না করে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে তারা প্রতারণা, শোষণ ও নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েন। অনিরাপদ অভিবাসনের সুফল-কুফল এবং মানব পাচারের বাস্তব ঘটনা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। বিশেষ করে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা প্রচারের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সচেতনতা ও উপলব্ধি সৃষ্টি করা সম্ভব।
বুধবার (২৪ জুন) সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ‘Combating Human Trafficking through Strengthening 4Ps’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত অনিরাপদ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউএনও মো. রায়হানুল ইসলাম মাঠপর্যায়ে কর্মরত জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানব পাচার সংক্রান্ত কোনো ঘটনা বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে জানাতে হবে। তিনি মানব পাচার প্রতিরোধে ব্র্যাকের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপজেলা প্রশাসন ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তার রিমা, উল্লাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রুপু কর, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি ও শিক্ষকবৃন্দ।
সভায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের এমআরএসসি কো-অর্ডিনেটর প্রমা প্রিসিলা ম্রং।
আলোচনা সভায় উল্লাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রুপু কর বলেন, “মানব পাচার বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মানুষ দালালের প্ররোচনায় পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে, নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, ভিটেমাটি বিক্রি করে পথে বসছে। অনেক পরিবার ভেঙে যাচ্ছে, এমনকি কেউ কেউ প্রাণও হারাচ্ছেন। তাই ইউনিয়ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে মানব পাচারবিরোধী জনসচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়া প্রয়োজন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের বিশ্বাস বলেন, “মানুষ মানব পাচারের শিকার হওয়ার অন্যতম কারণ হলো সঠিক তথ্যের অভাব। অনেকেই জানেন না কোথায় যেতে হবে, কীভাবে যেতে হবে কিংবা কোন এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া নিরাপদ। ফলে তারা সহজ পথের আশায় দালালদের খপ্পরে পড়ে যান।”
তিনি রেমিট্যান্সকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি উল্লেখ করে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারিভাবে অভিবাসন সংক্রান্ত কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান, যাতে মানব পাচারের ঝুঁকি কমে আসে।
সভায় বক্তারা নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দালালচক্রের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ১৯৭২ সাল থেকে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে আসছে। ২০০৬ সাল থেকে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, মানব পাচার প্রতিরোধ, বিদেশফেরত অভিবাসীদের পুনর্বাসন এবং এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
মন্তব্য করুন