খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার জানপুর মহল্লার বাসিন্দা ও একটি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি জাকারিয়া মাসুদ (৪৩) এবং সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের খাগা গ্রামের আনোয়ার হোসেন কিরণ (৪৫)।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শামসুজ্জোহা শাহানশাহ জানান, রায় ঘোষণার সময় আনোয়ার হোসেন কিরণ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে অপর আসামি জাকারিয়া মাসুদ পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এ মামলার আরেক আসামি ডা. আবদুল লতিফ হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করায় আদালতের নির্দেশে তার বিচার কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে। রিভিশন মামলার নিষ্পত্তির পর তার বিরুদ্ধে বিচারকাজ পুনরায় শুরু হবে।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ১৬ এপ্রিল রাতে সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট চত্বরে অবস্থিত সরকারি ব্যাচেলর কোয়ার্টারের নিজ কক্ষে নৃশংসভাবে খুন হন সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. বাকি মির্জা। দুর্বৃত্তরা তার হাত-পা বেঁধে গলাকেটে হত্যা করে। পরদিন এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার তদন্ত শেষে পুলিশ ২০১২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালে মামলার আরেক আসামি রুহুল আমীন বাবু মারা যাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা শেষে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
প্রায় দেড় দশক ধরে চলা এ মামলার রায়ে নিহত চিকিৎসকের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
মন্তব্য করুন