খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো সংগ্রহ মৌসুমে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমে যাওয়ার পাশাপাশি কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধানের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন।
উপজেলার ধানগড়া, চান্দাইকোনা, সোনাখাড়া ও নলকা ইউনিয়নের একাধিক কৃষক জানান, খোলা বাজারে ধানের দাম ওঠানামা করলেও সরকারি গুদামে নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ থাকায় তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ধান গ্রহণ করায় কৃষকদের ভোগান্তিও কমেছে।
চান্দাইকোনা ইউনিয়নের রুদ্রপুর এলাকার কৃষক হবিবর রহমান আকন্দ বলেন, “সরকারি গুদামে ধান দিতে পেরে ভালো লাগছে। বাজারের তুলনায় ভালো দাম পাচ্ছি। এতে চাষাবাদের খরচ কিছুটা হলেও উঠে আসছে।”
চান্দাইকোনা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তন্ময় বিশ্বাস জানান, কৃষকদের কাছ থেকে নির্ধারিত মান বজায় রেখে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। গুদামে ধান গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে কৃষকরা কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন। প্রতিদিনই কৃষকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে এবং সংগ্রহ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগিয়ে চলছে।
রায়গঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সিরাজুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে রায়গঞ্জ উপজেলায় ৩৬ টাকা কেজি দরে মোট ১ হাজার ৯৩২ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৯ টাকা কেজি দরে মোট ১২ হাজার ১১৪ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩২৫ মেট্রিক টন ধান এবং ৬ হাজার ২৫৫ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কৃষকদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। এতে লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকরা দ্রুত তাদের প্রাপ্য মূল্য পাচ্ছেন। সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমের ফলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন এবং খাদ্যশস্য সংগ্রহের সরকারি লক্ষ্য অর্জনও সহজ হচ্ছে।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল খালেক পাটোয়ারী জানান, কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষা এবং সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমকে শতভাগ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। কোনো কৃষক যেন হয়রানি বা অনিয়মের শিকার না হন, সে বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে তারা আরও বেশি কৃষিকাজে উৎসাহিত হবেন, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির সুযোগ অব্যাহত থাকলে কৃষকদের আগ্রহ আরও বাড়বে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের খাদ্য মজুত ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।#
মন্তব্য করুন